• সবং সম্মিলনী সর্বজনীন দুর্গাপুজো: বিপ্লবী অনাথবন্ধুকে স্মরণ কমিটির
    এই সময় | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, খড়্গপুর: দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী অনাথবন্ধু পাঁজা। সবংয়ের এই বীর বিপ্লবীর মৃত্যুদিনে তাঁকে স্মরণ করতে এগিয়ে এলো সবংয়ের ‘সম্মিলনী সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি’। বুধবার, তাঁর মৃত্যুদিনে নির্মীয়মাণ পুজো প্যান্ডেলের সামনে তাঁর ছবিতে মাল্যদান করেন পুজো কমিটির সদস্যরা। বিপ্লবীর জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনাও হয়।

    পুজো কমিটির সদস্যদের মতে, সবংয়ের প্রত্যন্ত জলবিন্দু গ্রামে জন্মগ্রহণ করেও স্বাধীনতার ইতিহাসে নক্ষত্র হিসেবে জ্বলজ্বল করছেন অনাথবন্ধু পাঁজা। মাত্র ২১ বছর বয়সে অকুতোভয় এই বিপ্লবী কুখ্যাত ইংরেজ জেলাশাসক বার্জকে খুন করতে যান ১৯৩৩-এর ২ সেপ্টেম্বর। জেলাশাসককে খুন করতে সক্ষম হলেও নিজে বাঁচেননি। জেলাশাসকের দেহরক্ষীর গুলিতে প্রাণ যায় তাঁর। সবংয়ের পরবর্তী প্রজন্মকে এই বীরত্বের কথা জানানো জরুরি। সেই কারণেই এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন বলে জানান পুজো কমিটির প্রাক্তন সভাপতি কালীপদ মেইকাপ। এ দিন বিপ্লবীকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পাশাপাশি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রাক্তন সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ দাস।

    ‘সম্মিলনী সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি’র উদ্যোগে ১৬ বছর আগে পুজোর সূচনা হয়েছিল রাখিল্যা মোড়ে। সে সময়ে গ্রামীণ এলাকায় দুর্গাপুজোর প্রচলন ছিল না বললেই চলে। তা হলে রাখিল্যা, রাগাবেড়িয়া, সাউতা, হরিরহাট, কুণ্ডলপাল, বলরামপুরের মানুষ কোথায় পুজো দেখতে যাবেন? তারপরেই গ্রামের সকলের সাহায্যে শুরু হয় পুজো।

    বর্তমানে এই পুজো কমিটির সদস্য সংখ্যাও প্রায় ৩৫০ জন। যাঁরা নিজেরাও সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা দিয়ে থাকেন। তা দিয়েই সাবেক পুজোয় নানা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। এ বারও অবশ্য তার ব্যতিক্রম হবে না। এ বার কমিটির বদল হয়েছে বলে জানান কালীপদ। তিনি জানান, পুজো কমিটির নতুন সভাপতি হয়েছেন গোপালচন্দ্র দাস ও সম্পাদক শিশির রানা। পুজোয় দুঃস্থদের নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। প্রকাশ করা হয় স্মরণিকা। শুভেন্দু স্মৃতি অঙ্কন প্রতিযোগিতাও হয়। যেখানে প্রায় শতাধিক প্রতিযোগী যোগ দেন। বিজয়ীদের পুরস্কারের পাশাপাশি শংসাপত্রও দেওয়া হয়।

    পড়ুয়াদের উৎসাহিত করতে কৃতী ছাত্র সংবর্ধনারও আয়োজন করা হয়। মাধ্যমিকের কৃতী ছাত্রছাত্রী ও চতুর্থ থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ কৃতীদেরও সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এমন প্রায় ২১ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। এ ছাড়াও পড়ুয়াদের শিক্ষাসামগ্রীও দেওয়া হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিভাবান গুণীজনদেরও সংবর্ধনা দেওয়া হয়ে থাকে। এর বাইরে গ্রামীণ এলাকার প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে প্রতিদিন স্থানীয় শিল্পীদের দিয়ে নানা ধরনের অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। যেখানে নাচ, গান, নাটকে যোগ দেন এলাকার ছেলেমেয়েরা। ফলে এই পুজো প্রকৃত অর্থেই সর্বজনীন হয়ে ওঠে নিজ গুণে। আশপাশের প্রতিটি গ্রামের মানুষ পুজোকে নিজের পুজো ভাবেন। পুজোর ক’দিন অনুষ্ঠান দেখতেও ভিড় জমান সকলে।

  • Link to this news (এই সময়)