এই সময়: কলকাতা পুরসভার ডিলিমিটেশন পরবর্তী নতুন ওয়ার্ড বিন্যাসে মহিলা, এসসি সংরক্ষিত ওয়ার্ডগুলি এ মাসেই চিহ্নিত হয়ে যাবে। ২০৯টি ওয়ার্ডের খসড়া বিন্যাস ইতিমধ্যে প্রকাশিত হলেও মহিলা, এসসি সংরক্ষিত ওয়ার্ড এখনও চিহ্নিত হয়নি। রাজ্যে সেন্সাস প্রক্রিয়া চললেও তার চূড়ান্ত রিপোর্ট এ বছর প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই পরিস্থিতিতে ২০১১–এর সেন্সাসের তথ্য অনুযায়ীই সংরক্ষিত ওয়ার্ডগুলি চিহ্নিত হতে পারে বলে রাজনৈতিক নেতাদের পর্যবেক্ষণ। শাসক–বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ওয়ার্ড বিন্যাসের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সেটা চিহ্নিত হলেই প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করে দেবে দলগুলি।
নিয়ম অনুসারে কলকাতায় এক তৃতীয়াংশ ওয়ার্ড মহিলা সংরক্ষিত হয়। সেই সমীকরণে অন্তত ৭০টি ওয়ার্ড এ বারও মহিলা সংরক্ষিত হতে পারে। কলকাতার পূর্বতন ১৪৪টি ওয়ার্ডের বিন্যাসে ৪৯টি ওয়ার্ড মহিলা এবং আটটি ওয়ার্ড এসসি কিংবা এসসি (মহিলা) সংরক্ষিত ছিল। যে ওয়ার্ডে সাত শতাংশের কাছাকাছি তফসিলি জাতিভুক্ত মানুষের বাস, সেই ওয়ার্ড এসসি সংরক্ষিত হয়। কোন কোন ওয়ার্ড এসসি এবং এসসি (মহিলা) হিসেবে সংরক্ষিত হবে, তা চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত ধরে নেওয়া কঠিন।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কলকাতা পুরভোটের ইলেকশন ইন–চার্জ সুকান্ত মজুমদার ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন, ২০৯টি ওয়ার্ডে বিজেপি একক শক্তিতে লড়াই করবে। কিন্তু ওয়ার্ড ভিত্তিক এই সংরক্ষণ বিন্যাস প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত প্রার্থী বাছাই সহজ হবে না। কলকাতায় বিজেপির ইলেকশন টিমের সহ–আহ্বায়ক রীতেশ তিওয়ারির কথায়, ‘বিজেপির নিয়ম অনুযায়ী, সাংগঠনিক স্তরে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাধারণত তিন জনের নাম প্রস্তাব করা হয়। এ বারেও সেই নিয়মের ব্যতিক্রম হবে না। কিন্তু ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে সংরক্ষিত ওয়ার্ডগুলি চিহ্নিত হলে তবেই সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় নীচের স্তর থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আসবে।’ বিজেপির একাধিক সাংগঠনিক নেতার বক্তব্য, সেপ্টেম্বরের শেষ অথবা অক্টোবরের শুরুতেই ঝাড়াই–বাছাই, সমীক্ষা–পর্ব সেরে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের তরফে ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা পুরভোটের রণকৌশল তৈরির কাজ করছেন বলে সূত্রের খবর। বিদ্রোহী শিবিরের এক প্রাক্তন কাউন্সিলারের পর্যবেক্ষণ, ‘সম্ভবত এ বারে ৩, ৬, ৯ নম্বর ওয়ার্ড— এই ফর্মুলায় মহিলা সংরক্ষণ হতে পারে। গতবারের বিন্যাসে ২ নম্বর ওয়ার্ডকে মহিলা সংরক্ষিত করে মহিলা সংরক্ষণের ফর্মুলা এগিয়েছিল। চূড়ান্ত ওয়ার্ড বিন্যাস হলেই প্রার্থী বাছাইয়ের আলোচনা শুরু হবে।’ জোড়াফুলের দাপুটে প্রাক্তন কাউন্সিলাদের বড় অংশ বিদ্রোহী শিবিরে থাকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত নতুন একদল মুখকে কালীঘাট–তৃণমূলের হয়ে ময়দানে নামাতে পারেন। কালীঘাট শিবিরের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বুধবার বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলই মূল বিরোধী শক্তি। ২০৯টি ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী দেবে, তৃণমূল থেকেই নতুন মেয়র হবেন।’ সিপিএমের কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের কথায়, ‘কোন ওয়ার্ড সংরক্ষণের আওতায় আসছে, সেটা বুঝতে পারলেও অফিশিয়াল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রার্থী বাছাই শুরু করছি না।’