সমুদ্রে ঘুরতে গিয়ে সি-ফুড খান না, এমন পর্যটক খুবই কম। নানা রকমের মাছ ভাজা, কাঁকড়া, জিভে জল আনা সব খাবার। কিন্তু সেই সব খাবার আদৌ সুরক্ষিত কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন থেকেই যায়। বুধবার বকখালির সাগর তীরে এবং বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় হানা দেয় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। দেখা যায়, কোনও কোনও দোকানে বাসি, পচা মাছ-মাংসও সযত্নে রাখা!
দিকে দিকে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান। আর তাতে চোখ কপালে ওঠার মতো সব ছবি সামনে আসছে। কোথাও ছত্রাক ধরা কিলো কিলো মাংস রেফ্রিজারেটরে প্যাকেটবন্দি, কোথাও আবার খারাপ মানের ভোজ্য তেল দিয়েই সুস্বাদু ডিশ বানিয়ে খেতে দেওয়া হচ্ছে খাদ্যরসিকদের। পর্যটকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাবারের মান যাচাই করতে বৃহস্পতিবার বকখালির বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং অস্থায়ী খাবারের দোকানে যৌথ অভিযান চালায় প্রশাসন। বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁয় বাসি খাবার, পচা মাছ, ক্ষতিকর রঙ মেশানো সবজি, ভেজাল মশলা-সহ ব্যবহারের অনুপযুক্ত খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।
বর্ষায় সপ্তাহান্তের ছুটিতে (news in bengali) অনেকেই বকখালি ঘুরতে যান। হোটেলগুলিতে ভালোই ভিড় হয়। দু’দিনের ছোট্ট ছুটি কাটানোর আদর্শ সময় এটা। আর সমুদ্রে বেড়াতে গিয়ে সামুদ্রিক মাছ খাবেন না, এমন পর্যটক খুবই কম পাওয়া যায়। আর এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে থাকে চিংড়ি, কাঁকড়া।
বৃহস্পতিবার যৌথ অভিযান চালায়, খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর, কাকদ্বীপ মহকুমা ও নামখানা ব্লক প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের স্বার্থে আগামিদিনেও বকখালিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের আধিকারিকরা এই মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া-সহ বিভিন্ন খাবারের গুণগত মান পরীক্ষা করেন। খুঁটিয়ে দেখেন রান্নার মশলা, রেফ্রিজারেটরে রাখা কাঁচা মাছ-মাংস-শাকসব্জির গুণগত মানও। সেখানকার কয়েকটি হোটেল, রেস্তোরাঁয় ঢুকে অবাক প্রশাসনের আধিকারিকরা। বাসি খাবার, পচা মাছও রেখে দিয়েছেন দোকানি। সেগুলি উদ্ধার করে ঘটনাস্থলেই নষ্ট করে দেওয়া হয়।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্ন সভাঘরের এক বৈঠকে ফুড ইনস্পেক্টরদে বার্তা দিয়েছিলেন, খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে কোনও আপস করা চলবে না। খাদ্যের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে রাজ্য জুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। শুধু জরিমানা করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। গুরুতর অনিয়ম বা জনস্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক কোনও কিছু ধরা পড়লে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশও দেন তিনি।
লক্ষ্য একটাই, একজনও মানুষের জীবনও যাতে ঝুঁকির মুখে না পড়ে। বুধবার রাজ্য জুড়ে এই অভিযান চলেছে। বহু হোটেল, রেস্তোরাঁকে নোটিস ধরিয়েছে প্রশাসন। বকখালিতেও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন এবং পর্যটকদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দোকান ও রেস্তোরাঁগুলিকে শোকজ় করা হয়েছে।