• নেপালে হড়পা বানের বিপর্যয়ের এক সপ্তাহের মধ্যেই তিব্বতে ভূমিকম্প, ফের নয়া বিপদ?
    এই সময় | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • Big Breaking: ভয়াবহ হড়পা বান বিপর্যয়ের পরে সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই নয়া আশঙ্কা। বৃহস্পতিবার সকালে আচমকা জোরালো কম্পন তিব্বতে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫। ঘটনার পরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। এই কম্পনের জেরে কোনও নয়া বিপর্যয় ধেয়ে আসবে কিনা সেই নিয়ে আশঙ্কিত বাসিন্দারা। সতর্কতা নেপাল তিব্বত সীমান্তেও। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও বিপর্যয়ের খবর মেলেনি।

    জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্স (GFZ)-এর দেওয়া তথ্য অনুসারে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের পরে এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, ভারতীয় সময় দুপুর ১টা ৪৬ মিনিট নাগাদ কেঁপে ওঠে তিব্বতের ওই এলাকার মাটি। NCS-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১৪ কিলোমিটার।

    ২৬ অগস্ট নেপাল-চিন সীমান্তে যে বিপর্যয় নেমে এসেছিল। হিমবাহ বা বরফের বিশাল অংশ ধসে পড়ার ফলেই ঘটেছিল সেই বিপর্যয়। সেই ধসের জেরে পাহাড়ি নদীগুলিতে আচমকা বিপুল পরিমাণ জল, কাদা এবং পাথর নেমে আসে। নিমেষের মধ্যে ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যায় রাস্তা, সেতু, বাড়িঘর এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো।

    প্রাথমিক পর্যায়ে ওই ঘটনার সঙ্গে একটি ভূকম্পনের যোগসূত্র নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। পরে বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, যে ৫.২ মাত্রার কম্পনের কথা সামনে এসেছিল, সেটি মূলত পাহাড় থেকে বরফ, পাথর ও ধস নেমে আসার ফলে সৃষ্ট কম্পনও হতে পারে। অর্থাৎ সেটিকে সরাসরি ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

    ২৬ অগস্টে হওয়া বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে তিব্বতে ভূমিকম্প হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই নজর রয়েছে দুর্গত পাহাড়ি অঞ্চলগুলির দিকে। ধস ও বন্যায় ইতিমধ্যেই দুর্বল হয়ে পড়া পাহাড়ি ভূখণ্ডে নতুন কম্পনের প্রভাব কতটা পড়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলি পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। নতুন করে কোনও ধস, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি বা পরবর্তী কম্পনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়েও পর্যবেক্ষণ চলছে।

    বিপর্যয়ের ঘটনায় এখনও অব্যাহত তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ১২৫২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এখনও নিখোঁজ প্রায় চার হাজারেরও বেশি মানুষ। সীমান্তের ওপারে, চিনের দিকে এই ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪১ জন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। সীমান্তের ওপারে, চিনের দিকে এই ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪১ জন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)