স্কুল চত্বরেই শিক্ষকের লালসার শিকার ছাত্রীরা। বিহারের বক্সারে এক সরকারি স্কুলের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই স্কুলেরই একাধিক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য বক্সারে। অভিযোগ, ওই স্কুলের ১২ জন ছাত্রীর উপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন দুই শিক্ষক। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের ভিডিয়ো তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। দুই শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে একটি আপত্তিকর ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। সেই ভিডিয়োতেই স্কুলের ছাত্রীদের উপর হওয়া যৌন নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসে। অভিযোগ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তদন্তে নামে প্রশাসন। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, স্কুলেরই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২ জন ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
স্কুলের চত্বরে পড়ুয়াদের সঙ্গে এমন ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক শোরগোল ছড়িয়েছে। ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসা মাত্রই গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁরা স্কুলে ঢুকে অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে ঘিরে ধরেন। শিক্ষকদের বেধড়ক পেটানো হয়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
অভিযোগ সামনে আসার পরেই দুই অভিযুক্ত শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। যে জায়গায় পড়ুয়াদের নিরাপদে থাকার কথা, সেখানেই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় প্রশ্ন উঠেছে স্কুলের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়েও। POCSO আইনে মামলা দায়ের করে শুরু হয়েছে তদন্ত। গুরুতর এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ভিডিয়োটি কারা রেকর্ড করেছে এবং কারা সেটি ছড়িয়েছে, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এ ছাড়া কত দিন ধরে এই ঘটনা চলছিল, সব ছাত্রীই কি একই ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে স্কুলের অন্য কেউ আগে থেকে কিছু জানতেন কি না—এই বিষয়গুলিও এখন তদন্তের আওতায়।