• আট দিন ধরে নেপালে নিখোঁজ মুকুলের পুত্রবধূ, DNA স্যাম্পল পাঠানো হলো হাসপাতালে
    এই সময় | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নেপালে হড়পা বান বিপর্যয়ের পর আট দিন কেটে গিয়েছে। এখনও খোঁজ মিলল না মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের। এই পরিস্থিতিতে স্ত্রীর খোঁজ পেতে এ বার সমাজমাধ্যমের দ্বারস্থ হলেন স্বামী শুভ্রাংশু রায়। শর্মিষ্ঠার ছবি এবং তাঁর নেপাল যাত্রার কিছু তথ্য-সহ একটি পোস্টার শেয়ার করা হয়েছে। তাতে একটি যোগাযোগ নম্বর রয়েছে। মুকুল পুত্রের আবেদন, যদি কারও কাছে কোনও রকম তথ্য থাকে, যেন ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হয়।

    বুধবার রাতে সাড়ে ৯টা নাগাদ পোস্টারটি নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন শুভ্রাংশু। কিন্তু এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত শর্মিষ্ঠার ব্যাপারে কোনও খবর পাননি বলেই এই সময় অনলাইন-কে জানান তিনি। মুকুল পুত্রের কথায়, ‘এখনও কোনও আপডেট পাইনি। আজ শর্মিষ্ঠার ডিএনএ স্যাম্পল নিয়ে যাওয়া হয়েছে সাগর দত্ত হাসপাতালে।’

    ‘চলো যাই’ নামে কলকাতার একটি পর্যটন সংস্থা ৩২ জনের একটি দলকে নিয়ে গত ২১ অগস্ট নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। ওই পর্যটকদলের গন্তব্য ছিল মানসরোবর। শুভ্রাংশু জানান, শর্মিষ্ঠা ওই দলেই ছিলেন। নেপালে একাই গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গত বুধবার বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁর আর খোঁজ নেই। স্ত্রীর নাম ও ছবি-সহ যে পোস্টারটি শেয়ার করেছেন মুকুল পুত্র, তাতে বলা হয়েছে, নেপালে বিপর্যয়ের আগে শুভম গেস্ট হাউস নামে একটি হোটেলে উঠেছিলেন শর্মিষ্ঠা। তাঁকে শেষবার দেখা গিয়েছি গিরং পোর্টে। পোস্টারে যে যোগাযোগ নম্বরটি দেওয়া হয়েছে, তা হলো— 9051377068।

    ঘটনার পরে নেপালে বাংলার কত জন নিখোঁজ, তার একটি তালিকা প্রকাশ করে রাজ্য সরকার। তাতে শর্মিষ্ঠারও নাম রয়েছে। সরকারও জানায়, নিখোঁজদের যাতে দ্রুত হদিশ মেলে, তার জন্য সব রকম চেষ্টা করা হচ্ছে। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও শুভ্রাংশু এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে শর্মিষ্ঠা-সহ বাকিদের খুঁজে বার করার আশ্বাস দেন।

    কিন্তু শুভ্রাংশ বৃহস্পতিবার জানান, রাজ্য সরকারের তরফেও এখনও কোনও সদর্থক খবর মেলেনি। খবর দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট পর্যটন সংস্থা। ‘চলো যাই’-এর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। সংস্থার প্রজেক্ট হেড যশজিৎ বসু বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়ার চার জনের পরিবারের লোকেদের নিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর আমরা নেপালে গিয়েছিলাম। এ জন্য শুভ্রাংশুবাবুকেও ফোন করেছিলাম আমি। কিন্তু উনি যেতে পারেননি। কারণ, বাচ্চাদের দেখভাল করতে হচ্ছে ওঁকে। কিন্তু যাঁদের নেপালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাঁরাও ওখানকারা পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখে এসেছেন। নেপাল প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলিয়ে দিয়েছি। তাঁরা ওখানে ডিএনএ স্যাম্পল দিয়ে এসেছেন।’

    যশজিৎ জানান, বাকি পর্যটকদেরও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশের উদ্যোগে। সম্ভবত সেই সব নমুনার পরীক্ষা করা হবে তার রিপোর্ট নেপাল সরকারের দেওয়া একটি নির্দিষ্ট মেল আইডি-তে পাঠানো হবে। প্রসঙ্গত, উদ্ধার হওয়া বেওয়ারিশ দেহের শনাক্তকরণে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। তারা ঠিক করেছে, সেই সব দেহ কবর দেওয়ার আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হবে। যদি পরিবারের কেউ ভবিষ্যতে খোঁজ করতে আসেন, তা ভেবেই গণসৎকারের আগে এই পদক্ষেপ করার কথা ভেবেছে নেপাল।

  • Link to this news (এই সময়)