এবার ফরাক্কা থেকে ছাড়া হবে জল? ভারী বৃষ্টির মাঝেই আপডেট দিলেন GM
আজ তক | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারী বর্ষণ চলছে পশ্চিমবঙ্গে। ফুঁসছে একাধিক নদী। এমনকী গঙ্গার জলস্তরও বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা বৃষ্টিতে ইতিমধ্যেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেরই আশঙ্কা, এবার বোঝহয় জল ছাড়া হবে ফরাক্কা ব্যারেজ থেকে। নতুন করে ভেসে যাবে রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। যদিও এমন জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন ফরাক্কা ব্যারেজ প্রোজেক্টের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপাণ্ডে। তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে গঙ্গার জলের পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। যার ফলে আপাতত বিপদের কোনও আশঙ্কা নেই।
তিনি আরও জানান, গত ৩১ সেপ্টেম্বর ফরাক্কায় জলের পরিমাণ ছিল ১২ লক্ষ কিউসেক। এরপর ১ সেপ্টেম্বর সেটা সামান্য কমে ১১.৯ লক্ষ কিউসেক এবং পরবর্তী সময়ে ১১.৯ লক্ষ কিউসেকের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করছে।
তাঁর আরও দাবি, ফরাক্কা ব্যারেজ অত্যন্ত শক্তিশালী। এই ব্যারেজের নকশা বা ডিজাইন ক্ষমতা প্রায় ২৫ লক্ষ কিউসেক। অতীতে এই জলাধারে ১৬.৫ লক্ষ কিউসেক পর্যন্ত জল সফলভাবে সামলানো হয়েছে। বর্তমান সেই তুলনায় অনেক কম জল রয়েছে। এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।
ভারী বর্ষণ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছে যে, ক্যাচমেন্ট এলাকা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির তারতম্য হচ্ছে। যার ফলে জলের পরিমাণে সামান্য তারতম্য ঘটেছে। তবে এর ফলে কোনও ধরনের আতঙ্ক বা প্যানিকের অবকাশ নেই। ব্যারেজের সমস্ত গেট অপারেশনাল শিডিউল অনুযায়ী খোলা রাখা হয়েছে।
আরও জল ছাড়তে পারে ডিভিসি
মাথায় রাখতে হবে, ইতিমধ্যেই জল ভারী বৃষ্টির জেরে জল ছাড়তে শুরু করে দিয়েছে ডিভিসি। ইতিমধ্যেই মাইথন থেকে ৫৫ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। আর পাঞ্চেত থেকে ৬৫ হাজার কিউসেক জল বের করা হয়েছে। এই দুই জায়গা থেকে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে ডিভিসি।
আর বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আগামিদিনে আরও জল ছাড়া হতে পারে। কারণ, গভীর নিম্নচাপের জন্য প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। একাধিক নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। সেই কারণেই জল ছাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কোন কোন জায়গা প্লাবিত হতে পারে?
পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি ও হাওড়াতে প্লাবনের আশঙ্কা বেশি। নির্দিষ্ট করে বললে, পূর্ব বর্ধমানে জামালপুর, রায়না, খণ্ডঘোষের মতো এলাকাগুলিতে খারাপ অবস্থা হতে পারে। হুগলিতে আরামবাগ মহকুমায় প্রতিবছরই বন্যার কবলে পড়ে। আরামবাগ, পুরশুড়া, খানাকুল সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জল ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাওড়াতেও আমতা, উদয়নারায়ণপুর সহ একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাবনা।
এছাড়াও প্লাবনের সম্ভাবনা রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল, দুর্গাপুরের একাধিক এলাকা, বাঁকুড়ার পাত্রসায়র, সোনামুখীতে জল ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।