• পোস্ত-কুমড়ো ভাজা খাওয়াতে হবে! ৩০০ ফুট উঁচু টাওয়ারে উঠে শর্ত বাদশার, থ উদ্ধারকারীরা
    প্রতিদিন | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩০০ ফুট উঁচু মোবাইল টাওয়ারে উঠে বসে পা দোলাতে দোলাতে শহর দেখছিলেন যুবক। প্রথমে স্থানীয়রা মনে করেছিলেন, কোনও শ্রমিক কাজের জন্য টাওয়ারে উঠেছে। তবে দীর্ঘক্ষণ তাঁকে টাওয়ারের উপরে বসে থাকতে দেখে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হলেও টাওয়ার থেকে কিছুতেই নামতে রাজি নন যুবক। অনেক বোঝানোর পর টাওয়ার থেকে নামার জন্য তিনি দুটি শর্ত দেন। তিনি পোস্ত দিয়ে মিষ্টি কুমড়ো ভাজা খেতে চান এবং হেলিকপ্টারে চড়তে চান। সেই দুই শর্ত ‘মেনে’ নেওয়ার পরে কয়েকঘণ্টার চেষ্টায় নামানো হল ওই যুবককে। বুধবার এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল শিলিগুড়ির (Siliguri) কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম।

    ওই যুবকের নাম বাদশা। বুধবার একটি কমলা রঙের জামা পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম চত্বরের একটি বিএসএনএল টাওয়ারের উপর উঠে পড়েন তিনি। দুপুর নাগাদ স্থানীয়রা প্রথম তাঁকে দেখতে পান। বেশ কিছুক্ষণ পরেও তিনি নিচে নেমে না আসায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে বাদশাকে নামানোর তৎপরতা শুরু করে দমকল, বনদপ্তর ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা। তাঁর অবস্থান বুঝতে ওড়ানো হয় ড্রোন। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরেও নামতে রাজি হননি বাদশা। পরে মাঠে নামেন পর্বতারোহী নিহাল সরকার ও তাঁর টিম। তাঁর তৎপরতায় কথা বলতে রাজি হন বাদশা। কথা বলে জানা যায়, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। নিচে নামার জন্য পোস্ত দিয়ে কুমড়ো ভাজা খাওয়ার শর্ত দেন তিনি। পাশাপাশি হেলিকপ্টার চড়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। সেই দুই শর্তই ‘মেনে’ নেওয়ার পরেই তাঁকে স্ট্রেচারে শক্তভাবে বেঁধে টাওয়ার থেকে নামানো হয়। উদ্ধারকারী দলে নিহাল ছাড়াও ছিলেন কৃষ্ণ বর্মন, অমিত ঘোষ, সুজন সিংহ ও অজয় বর্মন।

    উদ্ধারের পর বাদশাকে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সূত্রের খবর, প্রায় ৮-১০ ঘণ্টা ধরে তিনি টাওয়ারের উপরে ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি তাঁর মানসিক চিকিৎসাও শুরু হয়েছে। যদিও তাঁর পাতে পোস্ত দিয়ে কুমড়ো ভাজা পড়ল কি না তা জানা যায়নি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)