রাজ্য পর্যটন মানচিত্রে ঝাড়গ্রাম (Jhargram) একেবারে প্রথম সারিতে রয়েছে। জনপ্রিয় এই জেলায় সারা বছরই এখন থাকে পর্যটকদের ঢল। হোটেল, লজ, হোমস্টেগুলিতে ঠাইনারা অবস্থা হয় ছুটির দিন গুলিতে। আর সেই সুযোগেই কি এবার সেখানকার হোটেলগুলিতে বসছে মধুচক্রের আসর! বুধবার ঝাড়গ্রামের একটি বেসরকারি লজে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৩ জন মহিলা এবং ছয় জন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে জেলা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এহেন মধুচক্রের আসর ভাঙতে এবার পুলিশ রেনডাম তল্লাশি অভিযান চালবে জেলা জুড়ে হোটেল, লজ এবং হোমস্টেগুলিতে। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে যেমন তল্লাশি চলবে পাশাপাশি পুলিশের চোখে সন্দেহজনক মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যাবেন পুলিশ আধিকারিকরা।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি জেলা পুলিশ-প্রশাসন ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন হোটেল, লজ এবং হোমস্টে মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সেই বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে একটা স্পষ্ট গাইড লাইন দেওয়া হয়েছে হোটেল, লজ, হোমস্টে কর্তৃপক্ষদের। পরিচয় পত্র-সহ নির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করার পাশাপাশি অবৈধ যৌনাচার ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই বিষয়ে ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মানব সিংলা বলেন ” আমরা হোটেল লজ, হোমস্টের মালিকদের নির্দিষ্ট গাইড লাইন দিয়েছি। একইসঙ্গে নির্দিষ্ট তথ্যের পাশাপাশি আমরা রেনডাম অভিযান চালাব। একদিন আগেই শহরের একটি লজ থেকে কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রেড চলবে।”
উল্লেখ্য ঝাড়গ্রাম জেলা জুড়ে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হোমস্টে রয়েছে ১০২ টি। এরমধ্যে ৫০টাই রয়েছে বেলপাহাড়িতে। জেলাজুড়ে হোটেল, লজ, হোমস্টের সংখ্যা ১৭০ থেকে ১৭৫টা। এরমধ্যে ঝাড়গ্রাম শহর এবং গ্রামীণ এলাকা মিলে সংখ্যাটা প্রায় পঁয়তাল্লিশ। বর্তমানে ট্রেনের পাশাপাশি বাস যোগাযোগ কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রাম, বেলপাহাড়ি-সহ অন্যান্য জায়গায় বেশ উন্নত হয়েছে। ফলে শীতের পাশাপাশি বছরের বিভিন্ন ছুটির দিন গুলিতে পর্যটকদের ঢল নামে। পাহাড়, জঙ্গল, নদী ঝোড়া ঘেরা স্থানগুলিতে এসে মানুষ জন আনন্দে মেতে ওঠেন। আর এই ভিড় এবং প্রচুর মানুষের আনাগোনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কি মধুচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে? এমনই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এর পিছনে কি বড় অঙ্কের অর্থের প্রলোভন রয়েছে? অল্পবয়সীদের কি কাজে লাগানো হচ্ছে? এমন নানা প্রশ্ন এবং সম্ভাবনা নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।