আর ট্রেন লেট নয়, পুরুলিয়ার আদ্রা-জয়চণ্ডীপাহাড় বাইপাস রেলপথে ২৭২ কোটি খরচে কাজ
প্রতিদিন | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিল্পাঞ্চলের পরিকাঠামো গড়তে বদলে যাচ্ছে পুরুলিয়ার রেল মানচিত্র। আদ্রা-জয়চণ্ডীপাহাড় ব্যস্ত রেলপথের চাপ কমাতে এবার তৈরি হতে চলেছে প্রায় ১১ কিলোমিটারের বাইপাস। ২৭২ কোটি টাকার এই প্রকল্পে ছাড়পত্র দিয়েছে ভারতীয় রেল। ফলে একদিকে পণ্যবাহী ট্রেনের যাতায়াত আরও মসৃণ হবে। অন্যদিকে কয়লা, লৌহ আকরিক-সহ শিল্পপণ্য পরিবহণে বাড়বে রেলের ক্ষমতা। শিল্পাঞ্চল হিসাবে পুরুলিয়ার গুরুত্ব বৃদ্ধিতে এই প্রকল্পকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভারতীয় রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, আদ্রা থেকে জয়চণ্ডীপাহাড় অংশে দীর্ঘদিন ধরেই পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের চাপ রয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে ব্যস্ত রুটে অতিরিক্ত ট্রেন চালানোয় নানা ধরনের রেল জট এবং সড়ক পারাপারের সমস্যা। প্রস্তাবিত বাইপাস তৈরি হলে সেই চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে আশা রেল কর্তৃপক্ষের। নতুন লাইন দিয়ে বছরে প্রায় ৮.৮৮ মিলিয়ন টন অতিরিক্ত পণ্য পরিবহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কয়লা, লৌহ আকরিক এবং অন্যান্য শিল্পপণ্য দ্রুত পরিবহণে এই লাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এই রেলপথের সঙ্গে সেল(SAIL)এর লৌহ আকরিকের চাহিদা এবং বিসিসিএলের কয়লা পরিবহণের বিষয়টিও যুক্ত রয়েছে। ফলে শুধু পুরুলিয়া নয়, বৃহত্তর শিল্প করিডরের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থাতেও এই বাইপাসের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রেল কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটি পুরুলিয়ার অবস্থানকে ‘এনার্জি, মিনারেল অ্যান্ড সিমেন্ট করিডর’-এ আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে। এই প্রকল্পের অনুমোদনের পিছনে সোশাল মিডিয়ায় নিজের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। তাঁর দাবি, পুরুলিয়ার রেল পরিকাঠামো এবং পণ্য পরিবহণের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি তিনি ধারাবাহিকভাবে রেল মন্ত্রকের কাছে তুলে ধরেছিলেন। তাঁরই বিশেষ উদ্যোগে এই প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে বলে সাংসদের তরফে দাবি করা হয়েছে।
অনুমোদনের পরে সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতো বলেন, ‘‘পুরুলিয়ার রেল পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং জেলার শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এটি বড় পদক্ষেপ। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং রেল মন্ত্রককে ধন্যবাদ। পুরুলিয়ার মানুষের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জেলার আরও উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাব।”
রেলপথের ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে পণ্য পরিবহণের খরচ ও সময় কমতে পারে। পাশাপাশি নতুন শিল্প, কর্মসংস্থান এবং আনুষঙ্গিক ব্যবসার সুযোগও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে ২৭২ কোটি টাকার এই বাইপাস শুধু একটি নতুন রেললাইন নয়। পুরুলিয়ার শিল্প-অর্থনীতির গতি বাড়ানোর অন্যতম পরিকাঠামো হয়ে উঠবে।