• সুদীপদের আর্জি শুনলেন স্পিকার ওম বিড়লা, সাংসদপদ খারিজ নিয়ে বক্তব্য জানাতে মিলল আরও ৩ সপ্তাহ
    এই সময় | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সাংসদ পদ খারিজ সংক্রান্ত বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আরও তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করা ২০ জন সাংসদ। তাতে রাজি হলেন স্পিকার। বৃহস্পতিবার লোকসভার সচিবালয় থেকে ওই ২০ জন সাংসদের দল এনসিপিআই-কে চিঠি লিখে তা জানানো হয়েছে।

    ২০ জনের বিরুদ্ধেই সাংসদপদ খারিজ করার আর্জি জানিয়ে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পিটিশন দাখিল করেছিলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকারের দিক থেকে কোনও বার্তা না-আসায় পরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদের সাংসদপদ খারিজের আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি হোক— এই আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। লোকসভার স্পিকার এবং সেক্রেটারি জেনারেলের বিরুদ্ধে ‘রিট পিটিশন ফাইল’ করেন তিনি। গত ২৫ অগস্ট প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। সেই মামলায় আদালতও ২০ জনের বক্তব্য জানতে চেয়েছে। তার পরেই স্পিকারের সচিবালয় ২০ জন সাংসদকে নোটিস পাঠায়।

    প্রাথমিক ভাবে নিজেদের বক্তব্য জানানোর জন্য ২০ জন সাংসদকে সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত মঙ্গলবার এনসিপিআই-এর দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারকে চিঠি লিখে আরও তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন তাঁদের বক্তব্য জানানোর জন্য। বৃহস্পতিবার লোকসভার সচিবালয় সেই চিঠির জবাব দিয়ে জানিয়েছে, তারা সুদীপদের আরও তিন সপ্তাহ সময় দিতে রাজি।

    কিন্তু তিন সপ্তাহ কেন? এই প্রশ্ন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, কৌশলগত কারণেই এই সময়সীমা চেয়েছেন সুদীপরা। কারণ, যদি সব কিছু নিয়ম মেনে হয়, স্বাভাবিক ভাবেই এগোয়, তা হলে তৃণমূল কংগ্রেসের আসল ‘মালিকানা’ কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্নেরও ফয়সালা হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ তৃণমূলের প্রতীক-তহবিল কার দখলে থাকবে, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারে নির্বাচন কমিশন। সুদীপদের আশা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নয়, দলের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের হাতেই যাবে। সেই ক্ষেত্রে কুড়ি জন লোকসভা সাংসদের অবস্থানই বদলে যাবে। সেই ক্ষেত্রে সুদীপদের সাংসদ পদ খারিজের মামলা চাইলে তুলে নিতে পারেন ঋতব্রতরা।

  • Link to this news (এই সময়)