• ‘আপনি নিজে ২২ বছরের বোনকে গর্ভবতী করেছেন’, মৃত প্রসূতির দাদার উদ্দেশে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে
    এই সময় | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • মধ্যপ্রদেশের রেওয়ার সঞ্জয় গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে প্রসূতি ও তাঁর সদ্যোজাত সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় বিতর্কের মধ্যেই সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। মৃতার দাদার উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ উঠল চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা সামনে আসতেই সরানো হলো অভিযুক্ত হাসপাতালের সুপার ডাঃ রাহুল মিশ্রকে।

    ঘটনার সূত্রপাত, রেওয়া জেলার হাটওয়া এলাকার বাসিন্দা ২৫ বছরের কল্পনা মিশ্রের মৃত্যু ঘিরে। প্রথম সন্তান প্রসবের জন্য ২৫ অগস্ট রাতে তাঁকে সঞ্জয় গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরের দিন রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়। একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন কল্পনা। কিন্তু তার পরেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় কল্পনার। বাঁচানো যায়নি সদ্যোজাতকেও।

    পরিবারের অভিযোগ, কল্পনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর বার বার চিকিৎসকদের তাঁর দিকে নজর দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে হাসপাতালের ভিতরের একটি ভিডিয়ো সামনে আসে। সেখানে কল্পনাকে কাঁদতে কাঁদতে পরিবারের কাছে তাঁকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করতে দেখা যায়। ভিডিয়োয় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এই ভাবে চিকিৎসা চলতে থাকলে এরা আমাকে মেরে ফেলবে। আমি বাঁচব না। দয়া করে আমাকে বাঁচাও।’ সেই অভিযোগের তদন্তের মাঝেই সামনে এল নয়া ভিডিয়ো। সেখানে প্রসূতির পরিবারের এক সদস্যের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে সঞ্জয় গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ রাহুল মিশ্রকে। এই ঘটনার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে মধ্যপ্রদেশ সরকার।

    ভিডিয়োয় রাহুল মিশ্রকে প্রসূতির দাদাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি আপনার ২২ বছরের বোনকে গর্ভবতী করেছেন।’ তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধীরাও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়।

    এর পরেই রাহুল মিশ্রকে হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্টের পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। তাঁর জায়গায় আপাতত হাসপাতালের জেনারেল সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. প্রিয়াঙ্ক শর্মাকে সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য দপ্তরের জারি করা নির্দেশে এই বদলির কথা জানানো হয়। তবে কেন রাহুলকে সরানো হল, নির্দেশে তার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

    কল্পনার বাবা রামশরণ মিশ্রের দাবি, মেয়ের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি চিকিৎসকদের বার বার জানিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘কল্পনা আমার একমাত্র মেয়ে ছিল। আজ সে আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে। যারা এর জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ FIR করুক। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও কর্মীদের সাসপেন্ড করা হোক। মৃত্যুর আগে ও আমাকে বলেছিল, বাবা, আমাকে বাঁচাও। এরা আমাকে মেরে ফেলবে।’

    এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ডা. রাহুল মিশ্রের দাবি, গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় নিয়মিত পরীক্ষা করানো হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রোটোকল মেনে অন্তত আটটি অ্যান্টেনেটাল চেক-আপ প্রয়োজন হলেও কল্পনার নথিতে মাত্র দু’টি পরীক্ষার তথ্য ছিল এবং দু’টিই বেসরকারি হাসপাতালে করা হয়েছিল। হাসপাতালে আসার পর তাঁর রক্তচাপ ও হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যায় এবং তিনি জ্ঞান হারান বলে জানান রাহুল। তবে কল্পনার দাদার উদ্দেশে করা মন্তব্যের জন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বলে খবর।

    ঘটনার তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দু’জন নার্সিং অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। কল্পনার মৃত্যু কী ভাবে হল, চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা—তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)