• ১৩ বছরেও অস্ত্রোপচার হয়নি AIIMS-এ, মেয়েকে হারিয়ে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হওয়ার ভাবনা বাবার
    এই সময় | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • মেয়ের দু’বছর বয়সে শুরু হয়েছিল তার চিকিৎসার জন্য ছোটাছুটি। তার পরে কেটে গিয়েছে ১৩ বছর। মেয়েকে সুস্থ করতে অসংখ্য বার ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ছুটে গিয়েছেন দিল্লির AIIMS-এ। কিন্তু ১৩ বছর ধরে দেশের সেরা হাসপাতালে মেলেনি অপারেশনের সুযোগ। তার জেরেই মাত্র ১৫ বছর বয়সেই রাজস্থানের কোটার এক কিশোরীর জীবনে ছেদ পড়ল।

    পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌যন্ত্রের জটিল সমস্যায় ভুগলেও অস্ত্রোপচারের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে। এই গাফিলতিতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। মেয়ের অকাল মৃত্যুতে বিচার চেয়ে এ বার রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কিশোরীর বাবা। অন্য দিকে, ওই হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন মৃত কিশোরীর মা।

    মৃত কিশোরীর নাম তানভি পারিয়ানি। জানা গিয়েছে, জন্মের সময় থেকে হৃদযন্ত্রে জটিল সমস্যা ছিল তার। মাত্র দু’বছর বয়সে তাকে চিকিৎসার জন্য AIIMS দিল্লিতে নিয়ে যান বাবা-মা। এর পরে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চিকিৎসা চললেও প্রয়োজন ছিল একটা অস্ত্রোপচারের। পরিবারের অভিযোগ, এই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের জন্য নাকি গত ১৩ বছরে কোনও সময়ই পাওয়া যায়নি। তারিখ পাওয়া গেলেও বার বার নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়। শেষে AIIMS-এই মৃত্যু হলো তানভি পারিয়ানি। অসুস্থ তানভির প্রতি AIIMS-এর চিকিৎসকদের আচরণ ও মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন বাবা মুকেশ পারিয়ানি। তিনি। এখন কিশোরীর পরিবার এই ঘটনার জবাবদিহি চান। প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়েও মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার চাইবেন তিনি বলে জানিয়েছেন।

    মৃত কিশোরীর মা ভাবিকা পারিয়ানিও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, মেয়ের চিকিৎসায় আরও দ্রুত পদক্ষেপ করা হলে হয়তো পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত। তিনি অভিযোগ করেন যে, তাঁর মেয়ে প্রথমে গুরুতর অসুস্থ ছিল না, কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না হওয়ায় তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে।

    পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি চিকিৎসকদের বক্তব্যও সামনে এসেছে। AIIMS-এর তরফে রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং পরিবারের বক্তব্যের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত প্যানেল গঠন করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কিশোরী চিকিৎসকদের নজরদারিতে ছিল এবং তার চিকিৎসাও হচ্ছিল। পরিবারের তরফে যে দীর্ঘ সময় ধরে অস্ত্রোপচারের অপেক্ষার অভিযোগ করা হয়েছে, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত প্যানেল চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি এবং চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায় পরীক্ষা করে দেখবে। অস্ত্রোপচার পিছিয়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ কী ছিল এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তদন্তে তা স্পষ্ট হতে পারে।

    দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালগুলিতে জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। AIIMS-এর মতো প্রতিষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন। ফলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে অপেক্ষার তালিকা দীর্ঘ হতে পারে। কিন্তু একটি শিশুর ক্ষেত্রে কেন অস্ত্রোপচারের জন্য ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করতে হলো, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে।

    প্রশ্ন: LNJP হাসপাতালে MRI-এর অ্যাপয়েন্টমেন্ট কত দূরের তারিখে দেওয়া হয়েছে?

    উত্তর: শাহজাদ নামে এক রোগীকে MRI করানোর জন্য ২১ ডিসেম্বর, ২০২৮ তারিখের অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়েছে বলে কপিতে উল্লেখ রয়েছে।

    প্রশ্ন: LNJP হাসপাতালে MRI-এর জন্য এত দীর্ঘ অপেক্ষা কেন?

    উত্তর: হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, MRI মেশিনের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কর্মীর ঘাটতিও রয়েছে। ফলে প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক MRI পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে।

    প্রশ্ন: LNJP হাসপাতালে দিনে কতগুলি MRI করা হয়?

    উত্তর: বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১০টি MRI পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

    প্রশ্ন: শাহজাদের কেন MRI করানোর প্রয়োজন হয়েছিল?

    উত্তর: ২০২৫ সালের নভেম্বরে শাহজাদের পিটুইটারি অ্যাডেনোমা বা পিটুইটারি গ্রন্থির টিউমার অপসারণের অস্ত্রোপচার হয়েছিল। পরে মাথায় তীব্র যন্ত্রণার মতো সমস্যা হওয়ায় চিকিৎসক তাঁকে ফলো-আপ MRI করানোর পরামর্শ দেন।

    প্রশ্ন: শাহজাদ কেন বেসরকারি হাসপাতালে MRI করাননি?

    উত্তর: তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বেসরকারি হাসপাতালে MRI করানোর মতো আর্থিক সঙ্গতি তাঁর ছিল না। তাই তিনি সরকারি হাসপাতাল LNJP-তেই পরীক্ষার জন্য নাম নথিভুক্ত করেন।

    প্রশ্ন: LNJP হাসপাতালে প্রতিদিন কত রোগী OPD-তে আসেন?

    উত্তর: কপিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার রোগী LNJP হাসপাতালের OPD-তে আসেন।

    প্রশ্ন: MRI-এর অপেক্ষার সময় কমাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

    উত্তর: দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী পঙ্কজ সিং জানিয়েছেন, MRI স্ক্যানের অপেক্ষার সময় কমাতে CSR-এর মাধ্যমে একটি নতুন মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেটি ইনস্টলও করা হয়েছে।

    প্রশ্ন: MRI পরীক্ষার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা?

    উত্তর: অনেক রোগের নির্ণয় ও চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে MRI গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পরীক্ষার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু বা পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়াও পিছিয়ে যেতে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)