সৌমেন রায়চৌধুরী
ভরা বর্ষার মরশুম। আর বর্ষা মানেই ইলিশ ইলিশ মন। কিন্তু তা বলে ইলিশ কিনতে আসার নাম করে টাকা না দিয়ে কেউ ইলিশ নিয়ে কেটে পড়ে? মধ্যমগ্রাম বাজারে এমনই অভিযোগ উঠল। দোকানি অভিজিৎ বিশ্বাস জানান, এত দিন ধরে ব্যবসা করছেন, এমন অভিজ্ঞতা কোনও দিন হয়নি। প্রায় ৪ হাজার টাকা ফাঁকি পড়ল তাঁর! মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। বুধবার মনের দুঃখে দোকান পর্যন্ত খোলেননি। আশা করেছিলেন, হয়তো মহিলার কোনও ভুল হয়েছে। এসে টাকা দিয়ে যাবেন। অভিজিৎ জানান, কোথায় কী! কেউ এলো না। বৃহস্পতিবার দোকান খুললেও মন খারাপ। সিসিটিভি ফুটেজে মহিলার মুখ স্পষ্ট। কিন্তু কোথায় থাকেন তিনি, তা যে জানা নেই। ফলে ওই টাকা আর পাবেন বলে মনে করছেন না তিনি।
ইলিশের চাহিদা বাজারে তুঙ্গে। জোগান কম থাকায় ইলিশের দাম প্রায় আকাশছোঁয়া। প্রতিদিনের মতোই মাছের পসরা সাজিয়ে মঙ্গলবার মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ি সংলগ্ন অমলেন্দু স্মৃতি ব্যবসায়ী সমিতির বাজারে ব্যবসা করছিলেন ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ, প্রায় ৬০ বছরের কাছাকাছি এক মহিলা আসেন। এসে বলেন, সবচেয়ে বড়, ভালো ইলিশ দিতে।
ব্যবসায়ী অভিজিৎ জানান, মঙ্গলবার সালোয়ার কামিজ পরা এক মহিলা তাঁর দোকানে আসেন। এসে বলেন, ‘বড় মাছ নেবেন।’ দেখেশুনে মাছ পছন্দ করে ওজনও করান। এর পরেই টাকা দিতে গিয়ে বলেন, টাকা সঙ্গে নেই। সামনেই দোকান আছে। সেখান থেকে নিয়ে দেবেন। অভিজিৎ তাঁর এক ভাইকে ওই মহিলার সঙ্গে পাঠান।
অভিজিতের কথায়, ‘দেড় কিলো ওজনের মাছ। ২৫০০ টাকা কিলো। আমার ৩ হাজার ৭৮৮ টাকা দাম হয়। উনি বললেন রাউন্ড ফিগার দেবেন, ৩৭০০। আমি তাতেই রাজি হই। বলেন, টাকা সঙ্গে নেই। কাউকে পাঠালে দিয়ে দেবেন। আমি আবার ভাইকে যেতে বলি। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে ভাইয়ের থেকে আবার ৩০০ টাকা ক্যাশও নেন। বাজারের ২০০ মিটারের মধ্যেই আচমকা হাওয়া।’
বাজার থেকে বেরিয়ে ওই মহিলা জানিয়েছিলেন, বাজারের উল্টো দিকেই কাঠগোলার সামনে গেলে টাকা দিয়ে দেবেন। কারণ, সেখানে তাঁদের কাপড়ের দোকান। মাছ বিক্রেতার ওই ভাইকে মহিলা রিক্সা ডেকে দিতে বলেন। সেই রিক্সাতে মহিলার সঙ্গেই ওঠেন মাছ বিক্রেতার ভাইও। মাঝ পথে হঠাৎই একজনকে ফোন করে মহিলা টাকার কথা বলেন। এরপর আরও খানিক এগোতে একটি দোকান দেখিয়ে রিক্সাচালক ও মাছ ব্যবসায়ীর ভাইকে টাকা নিতে বলে তিনি নেমে যায়। তাঁরা যেতেই মহিলা উধাও!
এর পর আর কোনও খোঁজই মেলেনি মহিলার। অত দামি ইলিশ গেল, সঙ্গে ৩০০ টাকাও গেল! এমন কাণ্ডে হতবাক স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। তাঁরা বলছেন, এটা চুরি না, ডাকাতি। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাজার কমিটির ব্যবসায়ীরা জানান, আর কোনও দিনও এ ভাবে কাউকে জিনিস দেবেন না। এই ঘটনায় এখনও থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।