কখনও বধূ নির্যাতনের মামলা চাপা দেওয়ার জন্য বা কখনও জমির রেজিস্ট্রির জন্য ঘুষ চাইতে গিয়ে ধরা পড়ছেন সরকারি আধিকারিকরা। এ বার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেওয়ার জন্যেও ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠল। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ফাঁদ পেতে এক ল্যাবরেটরি-কাম-মর্গ অ্যাসিস্ট্যান্টকে হাতেনাতে ধরল পশ্চিমবঙ্গ দুর্নীতি দমন শাখা।
জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে গোপন অপারেশন চালায় অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অভিযোগকারীর কাছ থেকে ঘুষের টাকা নেওয়ার সময়ে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা।
অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, ঘুষ চাওয়ার পিছনে কোনও চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে অ্যান্টি-করাপশন ব্রাঞ্চ।
সরকারি হাসপাতালে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেওয়ার মতো পরিষেবার ক্ষেত্রেও ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে ঘটনার আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পরে ওই কর্মীকে মেডিক্যাল ফাঁড়ির পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
গত ৩১ অগস্ট উলুবেড়িয়ার সাব রেজিস্ট্রি অফিসের আধিকারিক জীবনকৃষ্ণ দাস জমি সংক্রান্ত বিষয়ে নিজের চেম্বারে বসে একজন ল ক্লার্কের কাছ থেকে ঘুষ নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। হাতেনাতে তাঁকে ধরা হয়। এর আগে ১৭ অগস্ট হাওড়া জেলার ব্যাঁটরা থানার সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) সুব্রত সরকারকে বধূ নির্যাতনের মামলা চাপা দিতে ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি। একই ভাবে, নাজিরগঞ্জ ফাঁড়িতে কর্মরত কনস্টেবল শুভময় মণ্ডলকেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ধরা হয়েছিল।