হেরিটেজ টয়ট্রেনের লোকো শেডের কাঠের ছাদ ভেঙে পড়ার জেরে দুর্ঘটনা ঘটেছিল দার্জিলিংয়ে। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন সাতজন রেলকর্মী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল পাহাড়ের রানির জনপদে। বুধবারের দুর্ঘটনায় বিপর্যস্ত হয়ে দার্জিলিংয়ের টয়ট্রেন পরিষেবা। বৃহস্পতিবার তার জেরে আপাতত বাতিল হয়ে গেল ‘জয় রাইড’ এবং ‘স্টেশন মহোৎসব’ অনুষ্ঠান। এই ঘটনায় পর্যটকদের মন খারাপ। অনেকেই এখন পাহাড়ে ঘুরতে গিয়েছেন। তাঁরা ‘জয় রাইড’ করবেন বলে পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সে পরিকল্পনায় আপাতত জল ঢেলে দিয়েছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে।
বুধবার সকালে টয়ট্রেনের লোকো শেড ভেঙে পড়েছিল। তখন ঘটনাস্থলে ছিলেন কয়েকজন রেলকর্মী। ছাদ ভেঙে পড়ায় অন্তত সাতজন রেলকর্মী কমবেশি আহত হয়েছিলেন। রেল কর্তৃপক্ষ এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি আহতদের শারীরিক পরিস্থিতি জানতে যান কাটিহার বিভাগের ডিআরএম কিরেন্দ্র নরাহ। তিনি প্রথমে হাসপাতালে গিয়ে আহত কর্মীদের দেখেন। তারপর স্টেশনের ছাউনির জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে এবং দুর্ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘শতাব্দীপ্রাচীন হেরিটেজ কাঠামোর উপর দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে আবর্জনা জমছিল। কদিন ধরে টানা বৃষ্টি হওয়ার জেরে জঞ্জাল অতিরিক্ত ভারী হয়ে ওঠে। তার জেরেই এই বিপর্যয়।’
এই ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আসেন দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। ওই লোকো শেড এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের টয়ট্রেনের ইঞ্জিন শেডের কাঠের ছাদ ভেঙে পড়া নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। তবে হেরিটেজ কাঠামোর সংরক্ষণ এবং পুনর্নির্মাণ নিয়ে ডিআরএম মন্তব্য করেন, ‘ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ শিরোপা পাওয়া কাঠামোর সংস্কারে বিশেষ সতর্কতা এবং সময়সীমার প্রয়োজন হয়। ইতিমধ্যেই এই শেডটি ছাড়াও তিনধরিয়ার শেড সংস্কারের অনুমোদন এবং প্রস্তাব পাশ হয়েছে। ধসে যাওয়া অংশের পুনর্নির্মাণ কাজও দ্রুতই শুরু হবে।’
তাছাড়া এই ঐতিহ্যবাহী কাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পর্যটন স্থানের মধ্যে অন্যতম দার্জিলিং। প্রত্যেক মাসে প্রচুর সংখ্যক পর্যটক শৈলশহরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাক্ষী হতে উপস্থিত হন। এখানকার টয়ট্রেন আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। যা ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমাও পেয়েছে। সেই টয়ট্রেন স্টেশনের ছাদ ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটায় প্রভাব পড়েছে পাহাড়ি ট্রেনের নিয়মিত সূচিতে। মেরামতি এবং উদ্ধারের সুবিধার্থে আগামী দু’দিন ৯টি ‘জয় রাইড’-এর মধ্যে পাঁচটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ মনে করছেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাষ্পীয় ইঞ্জিনচালিত স্টিম পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে ‘ডিএইচআর স্টেশন মহোৎসব’ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডিএইচআর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী। মহোৎসবের নতুন তারিখ পরে জানানো হবে ঘোষণা করেছেন তিনি।