• বড়দের ‘পাপে’ বানভাসি শৈশব! নেপালে কাদার স্তূপের উপরে পড়ে স্কুলের ব্যাগ, ছেঁড়া বইখাতা
    প্রতিদিন | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • মৃত অন্তত ১২৫২। নিখোঁজ ৪২১৬। নেপালের বিপর্যয়ের এই পরিসংখ্যান গত কয়েকদিন ধরে বেড়েই চলেছে। আর তাকে ঘিরে ঘনাচ্ছে শোকের আবহ। কিন্তু নানা খণ্ডচিত্র বুঝিয়ে দিচ্ছে মানুষের এমন করুণ পরিণতিকে বুঝতে স্রেফ সংখ্যাই যথেষ্ট নয়। হতে পারে না। যেমন এই কাদার মধ্যে পড়ে থাকা স্কুলের ব্যাগ, ছেঁড়া বইখাতা। এর মালিক সপ্তম শ্রেণির খুদে পড়ুয়া এখন কোথায় কেউ জানে না। কেবল রয়ে গিয়েছে সেদিনের ভয়াবহতার চিহ্নটুকু। সেদিনের হরপা বান কতটা ভয়ংকর ছিল, তা বুঝিয়ে দিতে এমন এক-দু’টো খণ্ডদৃশ্যই বোধহয় যথেষ্ট।

    দেখা গিয়েছে, পড়ুয়ার নাম রোশন মিজার। সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া। রোল নম্বর ৩১। স্কুলের নাম শ্রীবাগেশ্বরী সেকেন্ডারি স্কুল। সবই জানা যাচ্ছে ওই বইখাতার লেবেল দেখে। এমনকী, বইয়ের মাঝে একটা প্লাস্টিকের স্কেলও রয়েছে। যেন কতদূর পড়া হয়েছে তা চিহ্নিত করাই উদ্দেশ্য ছিল। ব্যাগের ভিতরে রয়েছে দু’টি পেন এবং একটি টিফিন বাক্স। বাক্সের মধ্যে এখনও রয়ে গিয়েছে সেদিনের গোটা টিফিনটাই! জানা যাচ্ছে না, ওই পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ কী। সে কি বন্যায় ভেসে গিয়েছে নাকি কোথাও আশ্রয় নিয়েছে তা জানার উপায় নেই। কেবল রয়ে গিয়েছে সংশয়।

    উল্লেখ্য, ত্রিশূলী ও ভোটকোসি নদীর ধ্বংসযজ্ঞে এখনও পর্যন্ত প্রাণ গিয়েছে ১২০৪ জনের। নিখোঁজ ৪২০০ জন। এখনও পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে ৬৫৪১ জনকে। ভয়ংকর দুর্যোগে কত বাড়ি, অফিস, সেতু, দোকান-বাজার ভেঙেছে, তার স্পষ্ট হিসাব এখনও প্রশাসনের কাছে নেই। মনে করা হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষ কোটি টাকা। ভঙ্গুর অর্থনীতি মধ্যে এত বড় বিপর্যয়ে কার্যত দিশাহারা বলেন্দ্র শাহ সরকার। এই অবস্থায় গতকাল ভারত ও চিনের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিল নেপাল। পরে অবশ্য সুরও নরমও করে তারা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)