• টানা বৃষ্টিতে প্লাবন উত্তরপ্রদেশ, তিন জেলায় মৃত ৫, বিহারে বিপদসীমার উপরে বইছে গঙ্গা
    প্রতিদিন | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • চলতি বছরে অসমে বন্যা দিয়ে দেশে শুরু হয়েছিল বর্ষাকালীন দুর্যোগ। বর্তমানে একধিক রাজ্য বন্যা, হড়পা বান, ধসে বিপর্যস্ত। বানভাসি উত্তরপ্রদেশের অধিকাংশ জেলা। সেখানে বর্ষাজনিত কারণে গত কয়েক দিনে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।

    মৃতেরা চিত্রকুট, আমেঠি এবং বারাবাঁকি জেলার বাসিন্দা। তিন জেলাতেই গত কিছুদিন ধরে একটানা বৃষ্টি চলছে। এর মধ্যে চিত্রকূট জেলায় একটি মাটির বাড়ি ধসে মৃত্যু হয়েছে ৩২ বছরের এক ব্যক্তি এবং তাঁর পাঁচ ও এক বছর বয়সি দুই সন্তানের। গুরুতর আহত ওই ব্যক্তির স্ত্রী ও শিশুকন্যা। এই মুহূর্তে রাজ্যের ২৩ জেলা প্লাবিত। এর মধ্যে বারাবাঁকির অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

    গতকালই জানা গিয়েছিল, বারাণসীর ৮৪টি ঘাট জলের তলায় চলে গিয়েছে। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে গঙ্গা। চিত্রকূট এবং মন্দাকিনী নদীর জল বিপদসীমার চার ফুট উপর দিয়ে বইছে। প্লাবিত রামঘাট, নির্মোহী আখড়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। শক্তি বাড়ানো জলস্রোতে ক্ষতি হয়েছে রামঘাট এবং নয়াগাঁওয়ের সংযোগকারী সেতুর। নদী সংলগ্ন বহু এলাকা থেকে স্থানীয়দের সরানো হয়েছে। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলিতে ঠাঁই হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।

    এদিকে বিহারের একাংশও বন্যাকবলতি। বুধবার রাতে পাটনার গান্ধী ঘাটে টানা বর্ষণে গঙ্গার জল বিপদসীমায় পৌঁছে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জলস্তরের অবস্থা পরিদর্শন করেন। প্লাবিত এলাকায় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আধিকারিকদের। ভোজপুর, পাটনা, সারণ, বৈশালী, নালন্দা, বেগুসরাই, লখীসরাই ও জেহানাবাদের নদী তীরবর্তী এবং নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘাট ও বাঁধের কাছাকাছি আসতে বারণ করা হয়েছে।

    গতকাল গুয়াহাটিতে দু’টি পৃথক ভূমিধসের ঘটনায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। মাথঘারিয়াতে ভূমিধসে চাপা পড়ে একটি বাড়ি। এই ঘটনায় এক দম্পতি এবং তাঁদের ১১ বছর বয়সি মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের একমাত্র সদস্য ১৯ বছরের যুবককে মাটি সরিয়ে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে আরও একটি ধস নামার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের। অসমের রাজধানী শহরের বহু রাস্তা জলের তলায়।

    এদিকে বুধবার জানা গিয়েছিল, টানা বৃষ্টির জেরে হড়পা বান এবং ধসে নতুন করে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে উত্তরাখণ্ডে। অন্যদিকে, হিমাচল প্রদেশে ধস-হড়পা বানে গত ৬৪ দিনে মৃত্যু হয়েছে ২৫৯ জনের!
  • Link to this news (প্রতিদিন)