• বিপজ্জনকভাবে কর্মীদের নামানোয় না! ম্যানহোল পরিষ্কারে উন্নত প্রযুক্তির জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে চুক্তির ভাবনা
    প্রতিদিন | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ম্যানহোল বা নালায় নেমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন সাফাইকর্মীরা। তাতে অনেকের মৃত্যু হয়! বিগত সরকারের আমলে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এবার সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য। উন্নত প্রযুক্তির জন্য দুর্গাপুরে স্থিত কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থার সঙ্গে চুক্তির পথে রাজ্য। এমনটাই জানালেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। আরও জানিয়েছেন, কোনও সাফাইকর্মীকে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে নামিয়ে কাজ করানো হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা সংস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে সেন্ট্রাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটে সাফাইকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। সেখানে ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে তিনি জানান, ম্যানহোল পরিষ্কারের জন্য বিশেষ যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়েছে। সাফাইকর্মীদের কাজের জন্য গাড়ির সঙ্গে থাকা অত্যাধুনিক মেশিন ম্যানহোলের ভিতরে নেমে সাকশন পদ্ধতিতে স্লাজ ও বর্জ্য তুলে আনতে পারে। একইসঙ্গে স্লাজ ও পরিষ্কার জল আলাদা করার ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে গোটা কাজটি মানুষের জীবন বিপন্ন না করেই করা সম্ভব।

    তিনি বলেন, “ম্যানহোল পরিষ্কারের ক্ষেত্রে মানুষের পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তি ও রোবোটিক্স ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এমন ব্যবস্থা তৈরি করা হবে, যাতে কর্মীদের ম্যানহোলের ভিতরে নামার প্রয়োজনই না হয়। আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে দুর্গাপুরের কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে রাজ্য সরকারের মউ স্বাক্ষর করার উদ্যোগ নিচ্ছে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার নামে কোনও মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না।

    মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বর্জ্যকে ফেলে না দিয়ে তা থেকে বায়ো-ম্যানিওর, বায়োগ্যাস-সহ বিভিন্ন ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী তৈরি করা সম্ভব। প্লাস্টিক বর্জ্য ও পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে সিমেন্ট কারখানায় ব্যবহার করা যায়। সেই ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জানিয়েছেন প্রথম দফায় দুর্গাপুর, আসানসোল পুরনিগম, বর্ধমান পুরসভা, চন্দননগর ও বিধাননগর পুরনিগমে কাজ শুরু হবে। ধীরে ধীরে তা অন্য পুরসভায় ছড়িয়ে যাবে। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)