• Nepal Flash Flood: এখনও নিখোঁজ বাংলার ৩৭, DNA ম্যাচিংয়ের জন্য শুরু রক্তের নমুনা সংগ্রহ
    এই সময় | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়: নেপালে বিপর্যয়ের পরে এখনও নিখোঁজ বাংলার ৩৭ জন। এর মধ্যে একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে কৈলাস মানসরোবর বেড়াতে গিয়েছিলেন ৩০ জন পর্যটক। ওই সংস্থার দুই ম্যানেজারের খোঁজও মেলেনি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। সরকারি হিসেবে সব মিলিয়ে নেপালের উদ্ধারকারী দল ১,২৫২টি দেহ উদ্ধার করেছে, এখনও নিখোঁজ ৪,২১৬ জন। এত মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না–থাকায় সেগুলি গণ–সৎকারের আগে ডিএনএ সংরক্ষণ করে রাখছে নেপাল প্রশাসন।

    কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছিল, এ দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে নেপালে গিয়ে যে পর্যটকরা নিখোঁজ হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ প্রোফাইলিং ই–মেলে নেপাল প্রশাসনের কাছে পাঠানো যেতে পারে অথবা ফিজ়িক্যালি গিয়েও ডিএনএ–তথ্য দিতে পারেন তাঁরা। সেই মতো বাংলায় কয়েকজন নিখোঁজের পরিবারের সদস্যরা রওনা দিয়েছেন নেপালের উদ্দেশে। আবার সেই প্রয়াসের অঙ্গ হিসেবে বাংলা থেকে নিখোঁজদের নিকটাত্মীয়দের থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরও। এর জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে ফরেন্সিক মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে।

    এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সব মেডিক্যাল কলেজের কর্তা ও ফরেন্সিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং সব জেলা হাসপাতালের মেডিকো–লিগাল অফিসারদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক হয়। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের দাবি, আত্মীয়দের থেকে কী ভাবে ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ করতে হবে এব‌ং কোন প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি মেনে তা কলকাতার বেলগাছিয়ার ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠাতে হবে, সেই বিষয়েই আলোচনা হয় বৈঠকে। রিপোর্ট তৈরির পাশাপাশি নমুনা যথাযথ ভাবে সংরক্ষণের বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে। আরজি করের উপাধ্যক্ষ সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক মেডিসিনের প্রধান চিকিৎসক পরাগবরন পাল ও এনআরএসের ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান চিকিৎসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ও ছিলেন ওই অনলাইন বৈঠকে।

    যদিও তাঁরা এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্যে নারাজ। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, বেলগাছিয়ার স্টেট ফরেন্সিক সায়েন্সেস ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের পরে সেই রিপোর্ট পাঠানো হতে পারে নেপালে। প্রথম দিনেই বিভিন্ন জেলার হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ এবং কলকাতার আরজি করে অনেক নিখোঁজের নিকটাত্মীয়ের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রশাসনের অন্দরের খবর, নেপালের ভোটকোশি নদীতে বয়ে গিয়ে গণ্ডক নদী হয়ে বিহার পেরিয়ে এ রাজ্যের গঙ্গাতেও দেহ বা দেহাংশ ভেসে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সেই জন্য যে সব জায়গায় ওই রকম দেহ বা দেহাংশ উদ্ধার হওয়ার কোনও রকম সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানকার সব স্থানীয় হাসপাতালের ফরেন্সিক মেডিসিনের চিকিৎসক অথবা মেডিকো–লিগাল অফিসার, সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা মেডিক্যাল কলেজের সুপার বা উপাধ্যক্ষ মিলিয়ে প্রায় ১০০ জনকে নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক হয় এ দিন। সূত্রের খবর, বৈঠকে পইপই করে বলা হয়, কোনও নিখোঁজের কোনও নিকটাত্মীয়কেই যেন ফেরানো না হয়।

    ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা হাসপাতালে দিতে গেলে অবশ্যই জেলার পুলিশ বা প্রশাসনিক আধিকারিকের মাধ্যমে আসতে হবে নিখোঁজদের পরিজনকে। এ দিন শিলিগুড়ির বাসিন্দা সমর মণ্ডলের বাবা গোপাল মণ্ডলকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানেই তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। খড়্গপুরের অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী স্বপনকুমার সিনহার পরিজন নিজেরাই জেলা প্রশাসনের কাছে ডিএনএ পরীক্ষার আর্জি জানিয়েছিলেন। সেই মতো এ দিন খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে রক্তের নমুনা দিয়েছেন স্বপনের ছেলে অর্ণব। প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পূত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের মায়ের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ। ডায়মন্ড হারবারের বাসিন্দা কেয়া প্রামাণিক এবং মিতালি মণ্ডলের পরিবারের সদস্য, চন্দননগরের শিপ্রা রায়ের ভাইয়ের রক্তের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। আবার, উত্তরপাড়ার দম্পতি ক্ষিতীশচন্দ্র বিশ্বাস ও মমতা বিশ্বাসও নেপালে নিখোঁজ।

    এ দিন মমতার ভাই সমীর বারুইয়ের নমুনা সংগ্রহ করেছে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতাল। তারকেশ্বরের বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্তের ছেলে সায়নদীপ এবং ভ্রমণ সংস্থার এক ম্যানেজার জয়ন্ত সান্যালের বাবা বিমলের নমুনা সংগ্রহ করেছে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতাল। আরজি করেও অন্তত ১১ জন নিখোঁজের নিকটাত্মীয়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই ভ্রমণ সংস্থার আর এক ম্যানেজার নৃপেন সরকারের বাবা নির্মলচন্দ্র সরকারকে পুলিশ কল্যাণী জেএনএম মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যায় ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ করাতে।

  • Link to this news (এই সময়)