• ‘ভূতের’ ভয় কাটাতে পড়ুয়াদের সঙ্গে হোস্টেলে রাত কাটালেন জেলাশাসক, এসপি
    এই সময় | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • মুম্বই: হোস্টেলে ‘ভূতের’ ভয়ে আবাসিক স্কুল ছেড়ে বাড়ি চলে যাচ্ছি‍ল পড়ুয়ারা। তাদের মন থেকে ভয় দূর করতে ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সেখানে একরাত কাটালেন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার-সহ কয়েকজন সিনিয়র অফিসার। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের অমরাবতীর ডোমা গ্রামের আদিবাসীদের ওই আবাসিক স্কুলে এসে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করলেন, একসঙ্গে খাবার খেলেন এবং ভূত বলে যে কিছু নেই তা বোঝাতে সেই রাতটা সেখানেই কাটালেন অমরাবতীর জেলাশাসক আশিস ইয়েরেকর, জেলা পরিষদের সিইও সত্যম গান্ধী, এসপি নিকেতন কদম-সহ আরও কয়েকজন সিনিয়র অফিসার।

    আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের অধীনস্থ ওই স্কুল-হোস্টেলে গুজব রটেছিল সেখানে ভূত আছে। আর তাদের প্রভাবে সব সময়ে আচ্ছন্ন রয়েছে বেশ কয়েকটি ছাত্রী। কেউ আবার বলেছিল, রাতে সেখানে নূপুরের শব্দ শোনা যায়। সেই ভয়েই অন্তত ৮৫০ আবাসিকের মধ্যে বাড়ি চলে যায় ছশোর বেশি পড়ুয়া। বলাই বাহুল্য কোনও অতিলৌকিক ঘটনা সেখানে দেখা যায়নি, স্ট্রেস আর ভয় থেকেই ছাত্রীদের মনে ও শরীরে এমন প্রভাব পড়েছিল বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। তবে সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও প্রায় ৩৫০ পড়ুয়া ফিরে না আসায় উদ্বেগ বাড়ে হোস্টে‍ল কর্তৃপক্ষের। এ দিন জেলাশাসক বলেন, ‘ভূতের গুজব থেকেই ভীতি তৈরি হয়েছিল। ওদের মনের ভয় দূর করতেই আমরা সেখানে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নিই।’

    পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় বিরসা মুণ্ডা, তাঁতিয়া ভিলের মতো আদিবাসী নেতাদের সংগ্রামের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আশিস বলে‍ন, ‘কুসংস্কার ত্যাগ করে সবকিছু বৈজ্ঞানিক ভাবে ভাবতে ও দেখতে শেখো।’ পাশাপাশি, নিজেদের সিভিল সার্ভিস জার্নির গল্প শুনিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যেও আইপিএস এবং আইএএস অফিসার হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা দেন আধিকারিকেরা। স্কুলের একটি নতুন গার্লস’ হোস্টেলের উদ্বোধন করে ভয় ভুলে ছেলেমেয়েদের ফেরার ডাক দেন তাঁরা। ক‍ল্যাণী গোপীচাঁদ নামের এক পড়ুয়ার কথায়, ‘অফিসাররা এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলার পরে আমাদের মনের ভয় কিছুটা দূর হয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)