এই সময়: বঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার) প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া ব্যক্তিদের রেশন কার্ড যাচাই করে বাতিল বা নিষ্ক্রিয় করার কাজে গতি আনতে চাইছে রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর। এই প্রক্রিয়ায় এখনও পর্যন্ত মাত্র ১৮.৫৬ শতাংশ কার্ড বাতিল বা নিষ্ক্রিয় হয়েছে। দপ্তরের মতে, এই হার সন্তোষজনক নয়। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই, তাঁরা কোনও ভাবেই সামাজিক প্রকল্প বা অন্য কোনও সরকারি সুবিধের উপভোক্তা হতে পারবেন না।
অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত ও মৃত— এই তিন খাতে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। পাশাপাশি ‘অ্যাজুডিকেশন’ পর্বে বাদ যাওয়া প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের আবেদন বিচারাধীন রয়েছে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের কাছে। এর বাইরেও আরও বেশ কয়েক লক্ষ লোকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছে কমিশন। সব মিলিয়ে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে প্রায় ৩৮ লক্ষ আবেদন। এ বার ওই বিচারাধীন ব্যক্তিদের রেশন কার্ড যাচাইয়ের উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। যদিও প্রথমে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, ট্রাইব্যুনালে যাঁদের আবেদন বিচারাধীন, সেগুলির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের নাম সামাজিক প্রকল্প থেকে বাদ যাবে না। তবে তাঁদের রেশন কার্ডের স্টেটাস জানতে চাইছে খাদ্য দপ্তর।
দপ্তরের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, যাচাইয়ের সময়ে দেখা যাচ্ছে, ‘সারে’ বাদ পড়া বহু ব্যক্তির রেশন কার্ড আগেই বাতিল বা নিষ্ক্রিয় হয়েছে। আগের সরকারের আমলে মৃত্যুর নথি জমা পড়া এবং দীর্ঘদিন রেশন না তোলার ভিত্তিতে কার্ড নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া চালু হয়েছিল। সূত্রের খবর, ২০২১–এর পর থেকে এই প্রক্রিয়ায় দেড় কোটিরও বেশি রেশন কার্ড বাতিল বা নিষ্ক্রিয় হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বিয়োজনের ভিত্তিতে ফের নতুন করে আর এক দফা রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেন, ‘কোনও বৈধ রেশন গ্রাহক যাতে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাই অ্যাজুডিকেশনে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের কার্ড বিশেষ ভাবে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।’ খাদ্য দপ্তরের জুন মাসের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যাঁরা সিএএ বা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদের রেশন কার্ড আপাতত চালু থাকবে।