• ছেলেমেয়েদের খেলতে যেতে বলে স্ত্রীকে খুন, পরে আত্মঘাতী স্বামী, আউশগ্রামে মিলল জোড়া দেহ
    এই সময় | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পরে ছেলেমেয়েদের খেলতে যেতে বলেছিলেন বাবা। কিছুক্ষণ পরেই ছোট মেয়ে ফিরে আসে ঘরে। কিন্তু কোনও সাড়াশব্দ নেই দেখে বাবাকে খুঁজতে গিয়ে মাটির বাড়ির দোতলায় উঠেছিল মেয়েটি। তখনই চোখে পড়ে বাবার ঝুলন্ত দেহ।

    মেয়ের চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়েছিলেন পাড়াপড়শিরা। কিন্তু তখনও মায়ের দেখা মিলছিল না। পরে পুলিশ এসে মায়ের দেহও উদ্ধার করে। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের শিবদা আদিবাসী পাড়ার ঘটনা। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদের নাম সুকুল হেমব্রম এবং সরস্বতী হেমব্রম। শুক্রবার তাঁদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ও হাসপাতালে পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, সরস্বতী লক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। ১৪ বছর আগে তাঁর সঙ্গে সুকুলের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হচ্ছিল। দুপুরে খাওয়াদাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সুকুল ছেলেমেয়েদের বাইরে খেলতে যেতে বলেছিল। তার পরে ঘটনা ঘটে। পুলিশের অনুমান, অশান্তির সময়ে প্রথমে স্ত্রীকে খুন করেন সুকুল। তার পরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

    স্থানীয়েরা জানান, বিকেলে সুকুলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পরেও, সরস্বতীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তার পরেই পুলিশে খবর দেওয়া হয় সন্ধ্যা নাগাদ। তারাই বাড়ির সব ঘর খুলে খুলে দেখার সময়ে নীচতলার একটি ঘর থেকে সরস্বতীকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে তাকে গুসকরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কী নিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তি চলছিল, ঠিক কী ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাড়ির লোক এবং পাড়াপড়শিদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)