মহানায়কের জন্ম শতবর্ষে নিউ টাউনে ফিল্ম সেন্টারের শিলান্যাস, ২৫ কোটি বরাদ্দ রাজ্য সরকারের
এই সময় | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুরু হয়ে গিয়েছে মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপন। কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে রাজ্য সরকার। ৩ তারিখ থেকেই শুরু হয়েছে উদযাপন। সেই কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিউ টাউনে ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর নিউ টাউনে এই ফিল্ম সেন্টারের শিলান্যাস ও ভূমিপুজো অনুষ্ঠিত হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মহানায়কের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ আরও অনেকে। উত্তম কুমারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'বাংলা সিনেমায় তাঁর নিজের চার দশকের পথচলার পিছনেও মহানায়কের অবদান রয়েছে। তাঁর কথায়, 'আমি কাজ করছি ৪০ বছর। আমার বাবাও এই মাটিতেই কাজ করেছেন। কিন্তু ভিতটা পুঁতে দিয়ে গিয়েছেন উত্তম কুমার। বাংলা সিনেমা উনি ওই জায়গায় এগিয়ে না নিয়ে গেলে, আমরা কাজ করতে পারতাম না।'
এ দিন উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ফিল্ম সেন্টারটি নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানান। পাশাপাশি কালচারাল অ্যাডভাইজার হিসাবে মিঠুন চক্রবর্তীর নাম ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’-এর জন্য রাজ্য সরকারের তরফে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অত্যাধুনিক এই চলচ্চিত্রকেন্দ্রটি মোট তিনটি অংশে গড়ে তোলা হবে।'
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম অংশে থাকবে দুটি সিনেমা হল। প্রতিটি হলে ৭৫০টি করে আসন থাকবে। অর্থাৎ, মোট ১৫০০ দর্শকের জন্য সিনেমা দেখার ব্যবস্থা থাকবে এই অংশে। এর পাশাপাশি থাকবে প্রিভিউ থিয়েটার, ফুড কোর্ট এবং পার্কিংয়ের সুবিধাও।
দ্বিতীয় অংশে থাকবে ১০০০ আসনের একটি অডিটোরিয়াম। পাশাপাশি তৈরি করা হবে একটি ওপেন এয়ার থিয়েটার। ফলে সিনেমা প্রদর্শনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা, বিশেষ প্রদর্শনী কিংবা বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্রকেন্দ্রিক আয়োজনেরও সুযোগ থাকবে।
তৃতীয় অংশটি মূলত সিনেমা ও মিডিয়া-এন্টারটেইনমেন্ট শিল্পের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হবে। এখানে থাকবে অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং, কমিক্স, এক্সটেন্ডেড রিয়্যালিটি এবং সিনেমার পোস্ট-প্রোডাকশনের জন্য ল্যাবরেটরি ও স্টুডিয়ো। অর্থাৎ, শুধুমাত্র সিনেমা দেখার জায়গা হিসেবে নয়, চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং মিডিয়া-এন্টারটেইনমেন্ট শিল্পের পরিকাঠামোগত সহায়ক কেন্দ্র হিসেবেও এই ফিল্ম সেন্টারকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বর্ষার মরসুম শেষ হলেই উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার তৈরির কাজ শুরু হবে। অর্থাৎ, শিলান্যাসের পর দ্রুতই প্রকল্পের নির্মাণপর্বে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের।