• ইতালির ইতিহাসে নজির মেলোনির, ‘আমার বন্ধু...’ সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছাবার্তা মোদীর
    এই সময় | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ইতালির রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ইতালির সবচেয়ে দীর্ঘ সময় একটানা প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এই সাফল্যের মুহূর্তে মেলোনিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা পাঠালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

    সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মোদী লেখেন, ‘আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে অভিনন্দন। ইতালির যুদ্ধ-পরবর্তী ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় একটানা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁকে শুভেচ্ছা জানাই। এই মাইলফলক আসলে ইতালির মানুষের তাঁর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।’ মেলোনির নেতৃত্বের পাশাপাশি ভারত-ইতালি সম্পর্ক মজবুত করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

    মেলোনির এই রাজনৈতিক সাফল্যের সঙ্গে ভারত-ইতালি সম্পর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন মোদী। তিনি লিখেছেন, ‘তাঁর বন্ধুত্ব ভারত-ইতালি স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। দুই দেশের মানুষের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। ভবিষ্যতের জন্য মেলোনিকে অনেক শুভেচ্ছা।’

    জর্জিয়া মেলোনি ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাঁর নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল সরকার ১,৪১৩ দিন একটানা ক্ষমতায় থাকার নজির তৈরি করে। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ইতালির সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ধারাবাহিক সরকার হিসেবে আগের রেকর্ড ভেঙে নয়া নজির গড়লেন মেলোনি। তাঁর আগে এই রেকর্ড ছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনির নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয় সরকারের দখলে। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল এই সরকার।

    ইতালির রাজনৈতিক ইতিহাসে এই রেকর্ডের গুরুত্ব যথেষ্ট। ১৯৪৬ সালে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইতালিতে সরকার বদলের হার অত্যন্ত বেশি। গত আট দশকে ইতালিতে ৬৮টি সরকার এবং ৩১ জন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে কোনও সরকারের ১,৪০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকা সেখানে বিরল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার নজির।

    মেলোনি শুধু দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি ইতালির প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীও। ২০২২ সালে ডানপন্থী ‘Brothers of Italy’ দলের নেতৃত্বে নির্বাচনে সাফল্য পাওয়ার পরে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তাঁর সরকারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলির মধ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্যতম বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা মেলোনির। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ইউক্রেনকে সমর্থন করেছেন এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কড়া অবস্থান নিয়েছেন।

    তবে ইতালির অর্থনীতিতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার কতটা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কম অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, জীবনযাপনের খরচ এবং মজুরি সংক্রান্ত সমস্যাও মেলোনি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

    মোদী ও মেলোনির বন্ধুত্বের সম্পর্কও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বহুল আলোচিত। দুই নেতার নাম মিলিয়ে তাঁদের বন্ধুত্বকে অনেক সময়ে ‘মেলোডি’ (Melodi) বলে উল্লেখ করা হয়। গত কয়েক বছরে ভারত ও ইতালির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিশেষ করে কৌশলগত অংশীদারিত্ব, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বেড়েছে। ফলে মেলোনির ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সাফল্যে মোদীর শুভেচ্ছা শুধু সৌজন্যবার্তা নয়, ভারত-ইতালির ক্রমশ ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্কেরও প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)