• ফরাক্কায় লাইন মেরামতিতে বার বার বাধা, উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন পরিষেবা কি শনিতেও স্বাভাবিক হবে?
    এই সময় | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেল লাইনে ধস নামায় উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন চলাচল কার্যত বিপর্যস্ত। পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, শুক্রবার রাতের মধ্যেই মেরামতির কাজ সেরে শনিবার যাতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা যায়, সেই চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু তা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ, রেললাইন মেরামতির কাজ করতে গিয়ে বার বার বাধা-বিপত্তির মুখে পড়তে হচ্ছে রেলের কর্মীদের। ধস নেমেছে কাজ চলাকালীনও।

    যদিও শুক্রবার মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু পূর্ব রেলের কর্তাদের সুরেই দাবি করেছেন, শুক্রবার রাত ১২টার মধ্যেই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার পরে সাংসদ বলেন, ‘অতি বৃষ্টির ফলে ফরাক্কা স্টেশনের পাশেই আপ রেললাইন পুরোপুরি বসে গিয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা দ্রুত কাজ করছেন। রাত ১২টার মধ্যেই মেরামতি শেষ হবে এবং ট্রেন চলাচল আবার শুরু হবে।’ খগেন জানান, যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেন বাতিল করা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।

    বৃহস্পতিবার নিউ ফরাক্কা স্টেশনে ঢোকার মুখেই আপ লাইনে ধস নামে। যার জেরে বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরবঙ্গগামী একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল। কিছু ট্রেন ঘুরপথেও চালানো হয়। সেই সঙ্গে রেললাইন মেরামতির কাজও চলতে থাকে। কিন্তু ভোরে আবার ধস নামে রেল লাইনে। তার ফলে আবার কাজে বাধা পড়ে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের মধ্যে সংযোগরক্ষাকারী এই রুটে সব ট্রেনই বাতিল করে দিয়েছে রেল।

    কিন্তু রেলকর্মীদের সূত্রে খবর, নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কেবিন থেকে ধুলিয়ানের দিকে প্রায় ৮০০ মিটার রেলপথ এই ধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই অংশে যে মাটির উপরে রেললাইন পাতা হয়েছে, তা একেবারে নীচ থেকেই ক্ষয়ে গিয়েছিল। মূলত ইঁদুরের গর্তের কারণেই তা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে জল ঢুকে সেই অংশই বসে গিয়েছে। তাই প্রথমে স্টোনডাস্ট ফেলে সেই জমি মেরামত করার চেষ্টা করা হয়। তার পরে জেনারেটর ভ্যান চালিয়ে ট্রায়াল দেওয়ার চেষ্টাও করেন রেলকর্মীরা। সেই সময়ে আবার ধসে যায় লাইন।

    এই পরিস্থিতিতে বেসমেন্ট অর্থাৎ জমির ভিত মজবুত করার জরুরি বলেই মনে করছেন রেলের আধিকারিকেরা। সেই ভাবনা থেকে ক্রেন এনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের রেললাইন তুলে জমি মেরামতের চেষ্টা চলছে। রেলকর্মীদেরই একাংশ মনে করছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেই কাজ চললেও, তা যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ। সব যদি পরিকল্পনা মতোই এগোয়, তা হলে হয়তো ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রেল পরিষেবা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু জমির ভিত পোক্ত করতে গিয়ে যদি আবার কোনও বাধা-বিপত্তির মধ্যে পড়তে হয়, তা হলে মেরামতির কাজ শেষ করতে ৪৮ ঘণ্টা লেগে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে যাত্রী ভোগান্তি শুক্রবারই শেষ হবে না। শনিবারও উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করার কথা ভাবতে পারে রেল।

    ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তির সুযোগ নিয়ে বেসরকারি বাসে কালোবাজারি ও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে খগেন বলেন, ‘রাজ্য সরকারের তরফে বাস দেওয়া হলেও বেসরকারি বাসের টিকিট ব্ল্যাক মার্কেটিং হচ্ছে। বিজেপি সরকারের আমলে দুর্নীতিবাজদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।’

  • Link to this news (এই সময়)