• মাঝআকাশে বিকল যন্ত্র, নিয়ন্ত্রণ হারানো ককপিটে ‘নেশাগ্রস্ত’ পাইলট! এয়ার ইন্ডিয়া তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য
    প্রতিদিন | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩৭ জন যাত্রী নিয়ে উড়ছে বিমান। কিন্তু মাঝপথে বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেম একসঙ্গে বিকল হয়ে যায়। সেই পরিস্থিতি সামলানোর দায়িত্বে যে পাইলট ককপিটে ছিলেন, তিনি আবার বিমানে ওঠার আগে গাঁজা এবং ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। ফুকেত থেকে দিল্লি আসা এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে দুর্ঘটনার (Air India Phuket-Delhi Flight) প্রাথমিক তদন্তে এমনই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এল। প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করেছে এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো।

    গত ৪ আগস্ট দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ফুকেত-দিল্লি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। একধাক্কায় প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায় বিমানটি। এর জেরে সবমিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। কয়েকজনের আঘাত বেশ গুরুতর। গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু হতেই একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আসে। প্রথম ডোপ টেস্টে ফেল করেন এক পাইলট। তাঁর শরীরে সাইকোঅ্যাক্টিভ পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়েছিল। নিশ্চিত হতে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার ফলাফলও পজিটিভ আসে। পরে ওই পাইলট স্বীকার করে নেন, স্রেফ গাঁজা নয়, বিমানে ওঠার আগে ঘুমের ওষুধও খেয়েছিলেন তিনি। সেই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে ব্যুরোর প্রাথমিক রিপোর্টে।

    ‘নেশাগ্রস্ত’ পাইলটের দায়িত্বে থাকা বিমানই মাঝআকাশে বিকল হয়ে গিয়েছিল। ব্ল্যাক বক্সের তথ্য যাচাই করে জানা যায়, বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেম একসঙ্গে বিকল হয়েছিল। প্রথমে গ্রিন হাইড্রোলিক সিস্টেমের প্রেশার কমে যায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ব্লু এবং ইয়েলো হাইড্রোলিক সিস্টেমও একই সমস্যার সম্মুখীন হয়। বিমানকে ভাসিয়ে রাখার ক্ষমতা কমে যায় ডানাগুলির। তার জেরেই ঝাঁকুনি। কয়েক সেকেন্ডের জন্য় হু হু করে নিচে নামতে থাকে বিমান। তবে সৌভাগ্য়বশত সিস্টেমগুলি পুনরায় সঠিকভাবে কাজ করতে শুরু করে। বড় বিপদ এড়ানো যায়।

    তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে এই বিষয়গুলি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেখানে নেশাগ্রস্ত পাইলটের দিকেই মূলত আঙুল তোলা হয়। বিমানের যন্ত্রাংশ বিকল হওয়ার ঘটনাটি সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি তদন্তকারী সংস্থা। প্রশ্ন উঠছে, বিমানগুলি আদৌ নিরাপদ তো? মাঝআকাশে এইভাবে বিমানের যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে গেলে যাত্রীদের দায়িত্ব নেবে কে? উত্তর অজানা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)