নির্ধারিত দিনেই প্রকাশিত হবে সোনিয়ার স্মৃতিকথা! পেঙ্গুইন সরার পর মিলল নয়া প্রকাশক
প্রতিদিন | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লভ’ প্রকাশিত হবে নির্ধারিত সময় অর্থাৎ আগামী ১০ নভেম্বরেই। পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস নামের প্রকাশনা সংস্থা ওই বইটি প্রকাশ করতে অস্বীকার করলেও নয়া প্রকাশক জোগাড় করে ফেলেছেন সোনিয়া। ওই বইটি এবার প্রকাশ করবে হার্পার কলিন্স ইন্ডিয়া। সংস্থার তরফে সোশাল মিডিয়ায় সোনিয়ার বইপ্রকাশের খবর জানানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা প্রকাশ করার কথা ছিল পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস নামের প্রকাশনা সংস্থার। কিন্তু সূত্র বলছে, বইটিতে দেওয়া কিছু তথ্যে আপত্তি থাকায় সেটি প্রকাশ করতে আপত্তি জানায় পেঙ্গুইন। সূত্রের খবর, সংস্থার তরফে সোনিয়াকে বইয়ের পাণ্ডুলিপিতে কিছু বদলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব সোনিয়া মানতে নারাজ। সেকারণেই পিছু হটে সংস্থাটি। যদিও কংগ্রেস সরাসরি বলছে, বিজেপির চাপেই পিছিয়ে গিয়েছে পেঙ্গুইন। দলের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলিতে পেঙ্গুইনকে নিয়ে রীতিমতো সমালোচনাও শুরু হয়।
এসবের মধ্যেই নয়া প্রকাশক খোঁজার কাজ চলছিল। পেঙ্গুইন সরে যাওয়ার পর প্রথম আগ্রহ দেখায় হার্পার কলিন্স ইন্ডিয়া-ই। শেষপর্যন্ত তাঁদের সঙ্গেই চুক্তি চূড়ান্ত হল কংগ্রেস সভানেত্রীর। সোশাল মিডিয়ায় সোনিয়ার হার্পার কলিন্স বলছে, “সোনিয়া গান্ধীর বিলংগিং: আ জার্নি অব লভ আমরা প্রকাশ করব। ভারতে আগামী ১০ নভেম্বরই বইটি প্রকাশিত হবে। এই সময়ের সবচেয়ে বহুল প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক স্মৃতিকথা আসলে ভালোবাসা, কর্তব্য, পরিচিতির গল্প। এই বইটিতে ভারতের এতদিনের সফরের একটা বিরল অভ্যন্তরীণ দৃষ্টিকোণ পাওয়া যাবে।”
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ভারতের বাইরে বইটি প্রকাশ করবে আলফ্রেড এ. নফ নামের প্রকাশনা সংস্থা। ওই সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার। অথচ, ভারতে বইটি প্রকাশ করতে অস্বীকার করে পেঙ্গুইন। শেষে তাঁদের জায়গা নিল হার্পার কলিন্স। বইয়ে লন্ডনের কেমব্রিজে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর আলাপ, প্রেম, বিয়ে থেকে শুরু করে ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর হত্যা, ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ, ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলি রয়েছে। বইটিতে নেহরু-গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অজানা অধ্যায় উঠে আসবে বলে প্রকাশকের তরফে জানানো হয়েছে। ইটালির ছোট শহরে কাটানো শৈশব, কেমব্রিজে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে পরিচয় ও প্রেম, এবং ভারতের রাজনৈতিক পরিবারে প্রবেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। ১৯৮৪ সালে শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড এবং ১৯৯১ সালে স্বামী রাজীব গান্ধীর হত্যার পর কীভাবে তিনি রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসেন, সেই বেদনাদায়ক অধ্যায়ও বইটিতে স্থান পেয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্থাৎ ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ কেন হাতছাড়া করলেন- সেটাও বিস্তারিত ওই বইয়ে লেখা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।