মেঝেতে পড়ে থাকা ভাঙা নুডল দিয়েই ভুজিয়া! ওয়াই ওয়াই নুডল উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ
প্রতিদিন | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেপালের একমাত্র বিলিয়নেয়ার বিনোদ চৌধুরীর ব্র্যান্ড ওয়াই-ওয়াই ইনস্ট্যান্ট নুডল এবার এফএসএসআইয়ের নজরে। রাজস্থানে অবস্থিত সিজি ফুডস ইন্ডিয়ার একটি কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ থ হয়ে যায়। দাবি, তদন্তকারীরা দেখতে পান সেখানে মেঝেতে পড়ে থাকা নুডল কোনও রকম তাপপ্রয়োগ ছাড়াই পুনরায় ব্যবহার করে ভুজিয়া নামক ভারতীয় জলখাবার তৈরি করা হচ্ছে। এরপরই সেখান থেকে ৩২ হাজার কেজি মজুত ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে।
গত কিছুদিন ধরেই দেশজুড়ে বিভিন্ন রেস্তরাঁ, হোটেল ও অন্যত্র হানা দিয়ে খাদ্যের গুণগত মান খতিয়ে দেখছে এফএসএসআই। এমনকী, পিৎজা হাট ও ডমিনোজের মতো বহুজাতিক সংস্থাতেও হানা দেওয়া হয়েছে। এবার নজরে ওয়াই ওয়াই। এফএসএসআই জানিয়েছে, মেঝে থেকে ভাঙা নুডল সংগ্রহ করা হয়েছে, যাকে কোনওরকম তাপপ্রয়োগ না করে ভুজিয়ার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এরপর বিপুল পরিমাণে মজুত ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুরো বিষয়টিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইতিমধ্যেই লে’জ চিপস এবং কুরকুরের একাধিক ফ্লেভার, ম্যাগি এবং ন’রের একাধিক ফ্লেভারের নুডলস ও স্যুপের প্যাকেটে তারিখ বদলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। থামস আপ এবং লিমকার মতো জনপ্রিয় সফট ড্রিঙ্কও বেআইনিভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। সাধারণত তারিখ পালটে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলত গুদামগুলিতে। সেখানে অভিযান চালিয়েই বিরাট কারবার ফাঁস করেছে মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশেনের (এফডিএ) আধিকারিক এবং নবি মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
এদিকে মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কমিশনার পদে থাকা আইএএস তুকারাম মুণ্ডে তিন হাজারেরও বেশি হোটেল-রেস্তরাঁয় হানা দিয়েছেন। তার মধ্যে ১৬৫টি লাইসেন্স সটান বাতিল করেছেন। গ্রেপ্তার করেছেন সাড়ে তিনশোর বেশি। প্রায় ৩০ লক্ষ কেজি ভেজাল খাবার বাজেয়াপ্ত করেছেন। ফলে সামগ্রিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নামী দামি ব্র্যান্ড ও রেস্তরাঁর খাবারের যদি এই মান হয়, তাহলে গোটা ছবিটা ঠিক কতটা ভয়াবহ!