• ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রী, অনুমোদনের পরেও মেলেনি আয়ুষ্মান কার্ড! পুরুলিয়ায় ‘জনতার দরবারে’ অসহায় স্বামী
    প্রতিদিন | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দখল হয়ে গিয়েছে পৈতৃক জমি। সেখানে থাবা বসিয়েছে মাফিয়ারা। কারও এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ বৃদ্ধ পেনশন। কারও স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসার সুবিধায় আয়ুষ্মান অনুমোদনের পরও হাতে মিলছে না কার্ড। আবার কেউ সরকারি প্রকল্পের কাজ করেও ৯ বছর ধরে তার অর্থ পাননি। অথচ প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে, সেই অর্থ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন সব সমস্যার একদিনেই মুশকিল আসান হল বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনিক ভবনের জনশুনানিতে।

    এদিন যেখানে স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্বনিযুক্তি প্রকল্প দপ্তরের আধিকারিক সঞ্জয় বিশ্বাস, জেলা নির্বাচন দপ্তরের অফিসার ইনচার্জ আবুল আলা মামুদ আনসার সেই সঙ্গে অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) উৎকর্ষ সিং এমনকি জেলাশাসক সুধীর কোস্থম একেবারে মুখোমুখি হয়ে জেলার দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষজনের সমস্যা শুনলেন। দীর্ঘদিনের সমস্যার কোনটা তৎক্ষণাৎ মিটে গেল। আবার কোনটার প্রক্রিয়া শুরু হল। আর তাতেই হাসিমুখে সরকারি অফিস ছাড়লেন মানবাজারের বাসিন্দা পরমানন্দ মাহাতো, পুরুলিয়া ২ ব্লকের অমৃত মাহাতো, পুরুলিয়া শহরের নডিহার বাসিন্দা বিভাস ভৌমিক। জেলাশাসক সুধীর কোস্থম বলেন, “এই জনশুনানির মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের সব সমস্যার সমাধান করছি আমরা। এখানে আম জনতা একেবারে মুখোমুখি সরকারি আধিকারিকের সামনে বসে তার অভিযোগ জানাতে পারবেন। সমস্যার কথা বলতে পারবেন।”

    এই জনশুনানি জেলা প্রশাসনিক ভবন অর্থাৎ জেলাশাসক কার্যালয় ছাড়াও, বিডিও অফিস, মহকুমাশাসক অফিস এবং পুলিশ সুপার অফিসে হবে। এদিন পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ তাঁর কার্যালয়ে জনশুনানি করেন। এই জনশুনানি ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ প্রকল্পের আওতাভুক্ত। প্রতি মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই জনশুনানি চলবে। এই জনশুনানিতে আসা মানুষজনের অভিযোগ এবং গৃহীত ব্যবস্থা ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ পোর্টালে নথিভুক্ত করতে হবে। জনশুনানিতে সরকারি আধিকারিকের মুখোমুখি বসার আগে একটি আবেদন পত্রে নিজের নাম, ঠিকানা, ভোটার, আধার কার্ড লিখে রেজিস্ট্রেশনের পরই তাঁর অভিযোগ শুনবেন সরকারি আধিকারিকরা।

    মানবাজার এক নম্বর ব্লকের বাসিন্দা স্বপনকুমার দাঁ বলেন, “আমি রূপায়ণকারী সংস্থার কর্ণধার। ২০১৭ সালে মানবাজার মহকুমা শাসক কার্যালয়ের সাজানো গোছানোর কাজ পাই আমি। কাজ শেষ হবার পর ৯ বছর হয়ে গিয়েছে। এখনও আমি ৪ লাখের বেশি টাকা পায়নি।” তবে সম্প্রতি প্রশাসন জানিয়েছে, ওই টাকা তাকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁর কথায়, “কোন টাকায় পাইনি। আমার প্রাপ্য টাকা কোথায় উধাও হয়ে গেল। আমি বিস্তারিতভাবে প্রশাসনকে জানালাম। তারা বিষয়টি দেখছেন।” পুরুলিয়া শহরের নডিহার বাসিন্দা বিভাস ভৌমিক জনশুনানিতে এসেছিলেন আয়ুষ্মান কার্ডের জন্য। তাঁর কথায়, ‘স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত। আয়ুষ্মান কার্ডটা হলে সেখান থেকে চিকিৎসা করাবো। কার্ডের অনুমোদন মিলে গিয়েছে। কিন্তু হাতে পাইনি। তবে অভিযোগ জানানোর পরেই আধিকারিকরা জানান দ্রুত কার্ড হাতে পেয়ে যাবেন। এবার নিশ্চিন্ত হলাম।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)