• ‘একটাও বাঁধ ভাঙেনি, ভালো কাজ ডিভিসির’, বন্যা পরিস্থিতিতে কতটা প্রস্তুত রাজ্য? বার্তা শুভেন্দুর
    প্রতিদিন | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • প্রবল বৃষ্টিতে রাজ্যের একাধিক জায়গায় বন্যা পরিস্থিতি। নিম্ন দামোদর উপত্যকার বহু জায়গা জলমগ্ন। খানাকুল, জাঙ্গিপাড়া, উদয় নারায়ণপুর এলাকায় বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে জল। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বন্যা পরিস্থিতিতে কতটা প্রস্তুত রাজ্য? সেই বার্তাও দিলেন। প্রবল বৃষ্টিতে জল বেড়েছে নদীগুলিতে। জলের চাপ বেড়েছে বাঁধগুলিতে। সেই পরিস্থিতিতেও দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি) ভালো কাজ করেছে। সেই কথা জানিয়েদিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

    প্রতি বছর বন্যায় রাজ্যে নিম্ন দামোদর উপত্যকা ভেসে যায়। হাওড়া, হুগলির একাধিক গ্রাম জলের তলায় চলে যায়। নিম্নচাপের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে এবারও রাজ্যের বহু এলাকা জলমগ্ন। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন সেসব এলাকার বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ে এদিন জলসম্পদ ভবনে জরুরি বৈঠক করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকরা ছাড়াও, জেলাশাসকরা উপস্থিত ছিলেন। বাসিন্দাদের যাতে কোনওরকম বড় সমস্যার মধ্যে পড়তে না হয়, সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, খানাকুল, জাঙ্গিপাড়ায় উদয় নারায়ণপুর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে জল। মানুষজনদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গবাদি পশুদেরও যাতে ক্ষতি না হয়, সেসব দেখা হচ্ছে। গবাদি পশুদেরও নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ কমিয়েছে। এদিন বিকেলের পর এলাকাগুলিতে জল কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। “প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ডিভিসি ভালো কাজ করেছে।” সেই বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবর বন্যার জন্য ডিভিসি-কে কাঠগড়ায় তুলতেন। সেসময় রাজ্যের সঙ্গে ডিভিসির কার্যত ‘বৈমাত্রেয়সুলভ’ সম্পর্ক ছিল।

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী ডিভিসিকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন। তিনি জানান, “অতি ভারী বৃষ্টি ও প্রবল জলের চাপে কোনও বাঁধ ভেঙে যায়নি। তৃণমূল আমলে জুলাই-আগস্ট মাসে বর্ষায় আগে অনেক বাঁধ ভেঙে যেত। বালির বস্তা ফেলে পরিস্থিতি আয়ত্বে আনার চেষ্টা হত।” “ডিভিসি জল ছাড়া কমিয়েছে। দামোদমের বাঁধ না ভাঙায় স্বস্তি রয়েছে।” সেই কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

    প্লাবণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী দীর্ঘ বৈঠক করেন। দুর্গত এলাকাগুলিতে এসডিআরএফ, এনডিআরএফ, সিভিল ডিফেন্স কর্মী-আধিকারিকরা কাজ করছেন। মানুষজনদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এলাকায় কিছু জল জমে থাকলেও চিন্তার কারণ নেই। বিকেলের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে।” দুর্গতদের জন্য খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। পুলিশ কর্মীরাও ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজে রয়েছেন। বহু জায়গায় মানুষের বসবাসের এলাকায়, স্কুলের ভিতর সাপ ঢুকে গিয়েছে বলে খবর। ঘাটালে একটি স্কুল জলমগ্ন। ক্লাসরুমে মধ্যে বেঞ্চে বিশাল একটি সাপ ঘুরতে দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “সব জায়গাতেই অ্যান্টিভেনাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)