• ছোটদের প্রিয় রঙিন আইসক্রিমে ‘বিষ’, কী কী উপকরণ ছিল কারখানায়?
    এই সময় | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • স্কুলের গেটের বাইরেই আইসক্রিমের ঠেলা। তাতে রংবেরং নানা আইসক্রিম। স্কুল পড়ুয়াদের অত্যন্ত পছন্দের সেই খাবারেই বিষ? মেয়াদ উত্তীর্ণ ফ্লেভার থেকে শুরু করে মেয়াদ উত্তীর্ণ রং- আইসক্রিমের কারখানায় ঢুকে চোখ কপালে উঠল ফুড সেফটি অফিসারদের। ধনিয়াখালির চৌতারা এলাকায় ওই আইসক্রিমের কারখানা নিয়ে আগেও অভিযোগ উঠেছিল বলে সূত্রের খবর। ওই কারখানার কর্তৃপক্ষ লাইসেন্সের কোনও কাগজ দেখাতে পারেননি বলেও অভিযোগ।

    আইন ভেঙে আইসক্রিম তৈরির জন্য সাত দিনের সময় দিয়ে নোটিশ ধরিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। ফুড সেফটি অফিসার জানাচ্ছেন, আইসক্রিমের মান অত্যন্ত খারাপ। ফ্রিজে যে জল রাখা হয়েছে সেটাও ভালো নয়। স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে কারখানা চলছে না বলে জানিয়েছেন তিনি। আইসক্রিম তৈরির জন্য বহু ফ্লেভার এবং রং রাখা ছিল। কিন্তু সেগুলির প্রায় সবই মেয়াদ উত্তীর্ণ ছিল বলে জানাচ্ছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। যে ফ্রিজে আইসক্রিম রাখা হয়, সেটিও অপরিচ্ছন্ন বলে অভিযোগ। জলের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বেশ কিছু আইসক্রিম ফেলে দেওয়া হয়।

    তারকেশ্বরের ফুড সেফটি অফিসার শুভজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘ফুড বা ট্রেড কোনও লাইসেন্স নেই। কিছুই দেখাতে পারেননি। মেয়াদ উত্তীর্ণ ফ্লেভার ও রং মিলেছে।ফ্রিজ়ের মধ্যে জলের বাজে অবস্থা।’ তিনি জানাচ্ছেন, এই কারখানায় আগেও অভিযান হয়েছিল। শ্রাবণী মেলার শুরুতে হয়েছিল সেই অভিযান, তখন বলেও দেওয়ার পরেও উন্নতি হয়নি। এ বার পদক্ষেপ করা হলো বলে জানাচ্ছেন তিনি। এ দিন অভিযানে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অফিসার-কর্মীদের সঙ্গে ছিল পুলিশও।

    এ দিন তারকেশ্বর ব্লকের নানা এলাকায় অভিযান হয়েছে। আচার কারখানা, কলা পাকানোর কারখানায় অভিযান করা হয়েছে। আচার বানানোর কারখানায় দেখা গিয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে কাজ হয় না। ফুড সেফটি অফিসার শ্রবণা সরকার বলছেন, ‘চালতা-কুল কালো হয়ে গিয়েছে, কতদিনের পুরোনো বলতে পারছে না। অ্যাসিটিক অ্যাসিড ব্যবহার করা হচ্ছে, প্রিজ়ারভেটিভ হিসেব--সেই নিয়ে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)