• ‘টাকা না দিলে তোদের সন্তানকে…’, কানের কাছে বন্দুক ঠেকিয়ে দুঃসাহসিক ডাকাতি, আতঙ্ক গ্রামে
    এই সময় | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • কানের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে রীতিমতো সিনেমার কায়দায় ডাকাতি। বাঁকুড়া জেলায় বৃহস্পতিবার রাতে এক ইটভাটার মালিকের বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ। সোনা-রুপোর গয়না ও অন্যান্য সামগ্রী লুট করে পালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় চাঞ্চল্য এলাকায়। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার রাত তখন প্রায় ৯টা। বাজার থেকে বাইকে করে বাড়ি ফিরেছিলেন ইটভাটার মালিক প্রদীপ মই। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ডাকতেই ছোট ছেলে সদর দরজা খুলে দেয়। বাইক নিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকছিলেন প্রদীপ। অভিযোগ, সেই সময়েই আচমকা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে কয়েকজন চার-পাঁচজন দুষ্কৃতী তাঁকে ঘিরে ধরে। কানের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দোতলায়। তার পর পরিবারের সদস্যদের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে লুটপাট। বাঁকুড়ার হিড়বাঁধ ব্লকের নন্দা গ্রামের ঘটনায় হইচই পড়ে যায় গোটা এলাকায়।

    পরিবারের অভিযোগ, ঘরে ঢুকেই দুষ্কৃতীরা বাড়ির মোবাইল ফোনগুলি নিয়ে নেয়। প্রত্যেকের হাতেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। মুখ কাপড়ে ঢাকা থাকায় শুধু চোখ দেখা যাচ্ছিল। আধা হিন্দি, আধা বাংলায় কথা বলছিল তারা। প্রদীপের দুই হাত তার দিয়ে বেঁধে দোতালায় বসিয়ে রাখা হয়। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে মাথা নিচু করে বসে থাকতে বলা হয়। কয়েকটি আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও সোনা-রুপোর গয়না লুট করা হয়। নগদ টাকা কম রয়েছে জানতে পেরে আরও টাকা বার করার জন্য হুমকি দেওয়া হতে থাকে। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে দুই শিশুকে খুন করে দেওয়ার এবং এক জনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের।

    প্রদীপের পরিবারের দাবি, প্রায় ১৫ ভরি সোনার গয়না এবং প্রায় ৬০০ গ্রাম রুপোর সামগ্রী ছিল বাড়িতে। বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া পুরস্কারের রুপোর কয়েন, কাপ-সহ বেশ কিছু রুপোর সামগ্রীও নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার সোনা-রুপোর গয়না ও অন্যান্য সামগ্রী লুট হয়েছে বলে দাবি।

    বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে হিড়বাঁধ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রদীপ। পুলিশ আধিকারিকরা একাধিক বার ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন। বাড়িতে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও গোটা ঘটনা ধরা পড়েছে বলে পরিবারের দাবি। পুলিশের আধিকারিকরা সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে গিয়েছেন।

    পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পরেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুষ্কৃতীদের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। লুট হওয়া সামগ্রী উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনায় উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, এলাকায় এর আগে এই ধরনের সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।

  • Link to this news (এই সময়)