ন’দিন ধরে বাড়িতে নেই মা। তাই বাবাই সামলাচ্ছেন ছেলেমেয়েকে। কিন্তু তাঁরও নানা ব্যস্ততা রয়েছে। স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ব্যবসার কাজের দায়িত্বও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কখনও কখনও ছোট ছেলেকে দেখভাল করছে বড় মেয়েই। মায়ের কথা ভেবে ভাই যখন ডুকরে কেঁদে ওঠে, তখন দিদিই সান্ত্বনা দেয় ওকে। বলে, ‘কাঁদিস না ভাই, মা চলে আসবে!’
তা বলে যে দিদিরও মনখারাপ করছে না, তেমনটাও নয়। বছর নয়-দশের ভাইকে সামলাতে সামলাতে তেরো-চোদ্দ বছর বয়সি সেই কিশোরীরও কান্না পেয়ে যায়। কিন্তু ভাইয়ের সামনে যে এখন কাঁদা যাবে না, সেটুকু বুঝে গিয়েছে সে। তাই কোনও ক্রমে কান্না চেপে রাখে। দুঃসময়ই তাকে সেই কৌশল শিখিয়ে দিয়েছে। তার পরেও দিনের শেষে বাবাকে প্রশ্ন করে সে। জানতে চায়, ‘মা কবে আসবে?’ তখন আবার মেয়েকে সামলান বাবা।
শুভ্রাংশু রায়ের বাড়ির পরিস্থিতি গত এক সপ্তাহ ধরে এ রকমই। অন্তত তেমনটাই জানাচ্ছেন মুকুল রায়ের পুত্রের ঘনিষ্ঠরা। এক ঘনিষ্ঠের কথায়, ‘আপাতত সব দিকই সামলাতে হচ্ছে শুভ্রাংশুদাকে। মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ার মতো এই পরিস্থিতিতেও মন শক্ত করে সব কাজ করছেন উনি। পরিস্থিতি বুঝে ওঁর মেয়েও যে ভাবে দিদির দায়িত্ব পালন করছে এত কম বয়সেই, তাতে খানিক সুবিধা হয়েছে দাদার।’
ঘনিষ্ঠেরা জানান, শুভ্রাংশ রাজনীতিবিদ। তাই ব্যবসা মূলত স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ই দেখাশোনা করেন। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে তাঁদের যে স্কুলটি রয়েছে, সেটি স্ত্রীই পরিচালনা করেন। স্কুলের প্রশাসনিক কাজকর্ম তাঁর নখদর্পণে। কাঁচরাপাড়ার বাগমোড়ে একটি পলিক্লিনিকও রয়েছে শুভ্রাংশুদের। সেটিও দেখেন শর্মিষ্ঠা। এখনও সেই কাজও শুভ্রাংশুকেই দেখতে হচ্ছে।
মানসরোবর দর্শনে গত ২১ অগস্ট নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। গিয়েছেন কলকাতার একটি পর্যটন সংস্থার সঙ্গে। সেই সফরের মধ্যেই গত সপ্তাহে বুধবার হড়পা বানের বিপর্যয় ঘটে নেপালে। তার পর থেকেই খোঁজ নেই শর্মিষ্ঠার। তাঁর মতো ওই পর্যটন সংস্থার সঙ্গে আর যে সকল পর্যটক গিয়েছেন নেপালে, তাঁদেরও হদিশ মেলেনি এখনও।
পর্যটন সংস্থা জানিয়েছে, তারা সব রকম ভাবে চেষ্টা করছে পর্যটকদের খুঁজে বার করে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার। রাজ্য সরকারও সব রকম ভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। শুভ্রাংশু এবং তাঁর ছেলেমেয়ের সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সরকারের তরফে এখনও সেই অর্থে সদর্থক খবর মেলেনি। শুক্রবার শুভ্রাংশু বলেন, ‘না, এখনও কিছুই জানা যায়নি। সরকার এবং পর্যটন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি আমরা।’
শুভ্রাংশুর ঘনিষ্ঠেরা জানান, শর্মিষ্ঠা ঘুরতে ভালোবাসেন। বেশ কয়েক বার ছেলেমেয়েকে সঙ্গে নিয়েও গিয়েছেন। কিন্তু এ বার তিনি একাই যান। সম্ভবত বাচ্চাদের মানসরোবর নিয়ে যাওয়ার অনুমতি মেলে না বলেই। কিন্তু এ রকম যে পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা কেউই কল্পনা করেননি। শুভ্রাংশু নিজেও বাড়ির পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। শুধু বললেন, ‘আগে ফিরে আসুক ও!’