'যাহা TMC, তাহাই BJP', শুভেন্দুর উত্তম-মঞ্চে একের পর এক Viral Reel দেখে বলছে পাবলিক
আজ তক | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উপলক্ষ, উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান। গাইছেন বারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তব বাগচী। তাল দিচ্ছেন ওই কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। মঞ্চে বসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মঞ্চে আলো করে ইন্দ্রাণী হালদার থেকে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কয়েকদিন আগেও যাঁদের দেখা যেত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশেপাশে! নেট মাধ্যমে একের পর এক রিল ভাইরাল। কমেন্টে বক্সে কেউ মশকরা করছেন, তো কেউ কটাক্ষ। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ৪ মাসেই বিজেপির তৃণমূলীকরণ? নাকি সবাই ভাল 'তৃণমূল' হয়ে উঠলেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সরকারি থেকে তৃণমূলের যে কোনও সভা-সমাবেশে দেখা যেত তারকাদের। কখনও তাঁরা মমতার সঙ্গে তাল দিয়ে নাচতেন, কখনও গান শোনাতেন। কেউ কেউ লোকসভা থেকে বিধানসভায় দলের টিকিট পেয়েছিলেন। আবার কাউকে দেখা গিয়েছে তৃণমূলের ভোটপ্রচারে। সেই সব আজ অতীত! বর্তমান বিজেপি। মঞ্চের নীল-সাদা রং আজ গেরুয়া-সাদা। কিন্তু পাত্র-পাত্রী এক। সেই সস্ত্রীক রাজ চক্রবর্তী, সেই ইন্দ্রাণী হালদার, সেই ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। যা দেখে সাধারণ মানুষের মনে পড়ছে প্রয়াত মুকুল রায়ের সেই মন্তব্যটি- তৃণমূল মানেই বিজেপি। বিজেপি মানেই তৃণমূল।
রাজ চক্রবর্তীকে পাশে নিয়ে 'পৃথিবী বদলে গেছে...' গাওয়া বারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তব বাগচীর ব্যাখ্যা,''সংস্কৃতি জগতে আমরা ওরা রাখতে চান না বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। ভোটে জেতার পর তিনি সবার মুখ্যমন্ত্রী। দেখুন রাজ চক্রবর্তী আমার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বারাকপুরের বিজেপি কর্মীদের খারাপ লাগবে। এটা রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। সাংস্কৃতিক মঞ্চ। একুশে জুলাই মা-মাটি-মানুষের মঞ্চে বসে থাকতেন, তাঁরাও এসেছেন। এখানে আমরা ওরার ব্যাপার নেই'। মনে করিয়ে দিই, বিধানসভা ভোটের প্রচারে এই রাজের বিরুদ্ধে গুন্ডারাজ থেকে দুর্নীতির অভিযোগ পর্যন্ত তুলেছিলেন কৌস্তব।
নির্বাচনে জয়ের পর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন,'ভাল তৃণমূলীরা দলে স্বাগত'। বিস্তর সমালোচনার পর পিছু হঠেছেন শমীক। কিন্তু, চারপাশে রোজ যেভাবে তৃণমূলের নেতাদের রংবদল হয়ে চলেছে, তাতে শমীকের প্রথম কথাটাই সত্যি বলে প্রমাণিত হচ্ছে। ভাল কি খারাপ তা অবশ্য তর্কসাপেক্ষ। বিজেপির পুরনো নেতারা কী বলছেন? bangla.aatak.in ফোন করেছিল বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায়কে। তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্যের এক সিনিয়র বিজেপি নেতা ফেসটাইমে বললেন,'নেতা-কর্মীরা দিশেহারা। রোজই এই ধরনের ফোন পাচ্ছি। দলকে বলেওছি'। দল কী ব্যবস্থা নিয়েছে? কল কেটে দিলেন ওই নেতা।
অতঃকিম, উত্তম কুমারের যে গানটি কৌস্তব গেয়েছেন, সেটির কথা অদলবদল করে বলাই যায়- ক্ষমতা বদলে গেছে, যা দেখি নতুন লাগে, তৃণমূল-বিজেপি একই আছে।