• ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড কাণ্ডের জল গড়াল ‘সুপ্রিম’ দরবারে! হাই কোর্টের হস্তক্ষেপ না পেয়ে শীর্ষ আদালতে অভিষেকরা
    প্রতিদিন | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে বিলবোর্ড খুলে নেওয়ার ঘটনায় এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূলের কালীঘাট শিবির। আগেই এই কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্ত সেই মামলা অন্তবর্তী নির্দেশ দেয়নি আদালত। হাই কোর্ট হস্তক্ষেপ না করায় এবার সেই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করে ‘সুপ্রিম’ পথে পা বাড়িয়েছে অভিষেকরা। আগামী সোমবার শীর্ষ আদালতে তৃণমূলের দায়ের করা মামলার শুনানি হতে পারে।

    ক্যামাক স্ট্রিটে তিন হাজার স্কোয়ার ফুটের বেশি জায়গা জুড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস রয়েছে। তৃণমূল আমলে এই অফিস থেকেই নানান ‘নির্দেশ’ যেত জেলায় জেলায়, নেতাদের কাছে। সেই বাড়ির মাথায় জ্বলজ্বল করত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ লেখা সাইনবোর্ড। ২৭ আগস্ট বিকেলে সেই সাইনবোর্ডই ভেঙে দেয় কলকাতা পুরসভা। কাজটা অবশ্য নির্বিবাদে হয়নি। দফায় দফায় বচসায় জড়ান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি হয় পুলিশ এবং পুরসভার কর্মীদের। সিঁড়িতে শুয়ে পড়ে পুলিশ ও পুরসভার কর্মীদের আটকানোর চেষ্টা করেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ অন্যরা। বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মীকে ধাক্কা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কোনও বাধাই কাজে আসেনি। তারা বিলবোর্ড খুলে দেয়। 

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তর থেকে বিলবোর্ড খোলার ঘটনায় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল। শুক্রবার সকালে এই বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তৃণমূলের আইনজীবী কিশোর দত্ত। হাই কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বক্তব্য ছিল, বিলবোর্ডটি আবার আগের জায়গায় লাগিয়ে দেওয়া হোক। অন্য দিকে, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনের মালিক হাই কোর্টে জানান, বিলবোর্ড ঝোলানো হয়েছিল তাঁর অনুমতি ছাড়াই। তবে সেই মামলায় হস্তক্ষেপই করেনি কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর পর্যবেক্ষণ, “হোর্ডিং তো খুলেই ফেলা হয়েছে। নতুন করে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।” এরপরই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কালীঘাট শিবির।

    উল্লেখ্য, গতকালই ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে হামলা এবং ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী বৃহস্পতিবার ভোররাতে ওই অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। এমনকী দপ্তরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি কালীঘাট তৃণমূলের। ইতিমধ্যে এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এনে সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, ঘটনায় শাসকদল বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)