অন্নপূর্ণার ৩ হাজারেই প্রথমবার গ্রামে বাজবে পুজোর ঢাক, ‘দেবী’দের হাতেই হবে দুর্গার আরাধনা
প্রতিদিন | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গ্রামে এ যাবৎকাল দুর্গাপুজো হয়নি। প্রতিবার পুজোর দিনে ছেলেমেয়েরা মুখচুন করে থাকে। পুজোর আনন্দ ভাগ করে নিতে আশপাশের গ্রামে যেতে হয় আনন্দগড়ের বাসিন্দাদের। এবার দাসপুরের ওই গ্রামেই ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে। সৌজন্যে রাজ্য সরকারের দেওয়া অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। ওই গ্রামের মহিলারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে পেতে শুরু করেছেন। গ্রামের মহিলারা একজোট হয়ে একমাসের টাকা দিয়ে এবার দুর্গাপুজো করছেন। প্রস্তুতিও তুঙ্গে। আজ, শুক্রবার খুঁটিপুজোও হয়ে গেল এলাকায়।
পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর-১ ব্লকের রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের আনন্দগড় গ্রাম। ওই গ্রামে আগে কখনও দুর্গাপুজো হয়নি। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকায় সেভাবে দুর্গাপুজো করার কথা ভাবেননি বাসিন্দারা। দূরে ঢাক বাজার আওয়াজ কানে এলে মন খারাপও হত পুজোর দিনগুলিতে। কিন্তু এবার গ্রামের মহিলারাই দুর্গাপুজো করার জন্য উদ্যোগী হন। কিন্তু টাকা আসবে কোথা থেকে? অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দিয়েই ওই পুজো হবে বলে মহিলারা জানিয়েছেন।
গ্রামের ৫০ জন মহিলা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পান। তাঁরাই এবার একজোট হয়ে দুর্গাপুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে পুজোর জন্য ২ লক্ষ টাকা বাজেট ধরা হয়েছে। টাকার অঙ্ক আরও বাড়তে পারে। ৫০ জন মহিলা প্রত্যেকে ৩ হাজার টাকা করে দিচ্ছেন। সেক্ষেত্রে দেড় লক্ষ টাকা উঠছে। এছাড়াও আশপাশের অনেক মহিলাও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেতে শুরু করেছেন। তাঁদেরও পুজোর জন্য একমাসের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দেওয়ার কথা বলা হবে। শুধু তাই নয়, পুরুষদের থেকেও পুজোর চাঁদা নেওয়া হবে। সেই কথাও মহিলারা জানিয়েছেন।
আজ, শুক্রবার জন্মাষ্টমীর পুণ্যতিথিতে খুঁটিপুজোও হল। গ্রামের মহিলাদের এদিন প্রবল উৎসাহী দেখা গিয়েছে। গ্রামের বধূ সঙ্গিতা সানিগ্রাহী বলেন, “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দিয়ে আমরা মহিলারা সবাই মিলে পুজো করব। পুজোর পাঁচদিন হইচই হবে। সকলেই আনন্দে মেতে উঠবে।” অন্নপূর্ণার ৩ হাজারেই প্রথমবার গ্রামে বাজবে পুজোর ঢাক। গ্রামের ‘দেবী’দের হাতেই হবে দুর্গার আরাধনা। বিষয়টি জানতে পেরেছেন এলাকার বিধায়ক শীতল কপাট। তিনি বলেন, “তাঁদের প্রত্যেকের সংসারেই টান রয়েছে। হাতখরচের জন্যই সরকার ভাবে। তবুও সেই টাকা, শ্রম দিয়ে পুজো তাঁরা করছেন।” তাঁদের উদ্যোগকে কুর্নিশ করেছেন বিধায়ক।