• সৌদিতে কর্মহীন, জুটছে না খাবারও! ‘ফিরতে চাই’, মোদি-শুভেন্দুকে ভিডিও বার্তা নদিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকদের
    প্রতিদিন | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ভিনদেশে কাজে গিয়ে ঘোর বিপদে করিমপুরের দুই ভাই। সৌদি আরবে আচমকাই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তাঁরা। দু’বেলা খাবারও ঠিকমতো জুটছে না। কার্যত সর্বহারা তাঁরা। এই অবস্থায় দেশে ফিরতে চেয়ে তাঁরা ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। ছেলেদের এমন পরিস্থিতি দেখে তাঁদের অভিভাবকরাও প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চেয়েছেন।

    বছর দুই আগে কাজের খোঁজে সুদূর সৌদি আরবে গিয়েছিলেন নদিয়ার মুরুটিয়া থানার সিংহডাঙা গ্রামের সুশান্ত কাপাসিয়া ও তাপস কাপাসিয়া। সৌদি আরবের একটি সংস্থায় কর্মরত থাকার পর হঠাৎই তাঁদের কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সুশান্ত ও তাপসের দাবি, যে কোম্পানিতে তাঁরা কাজ করতে গিয়েছিলেন, সেই সংস্থায় বর্তমানে কোনও কাজ নেই। ফলে উপার্জনও শূন্য। এমনকী প্রতিদিনের খাওয়াদাওয়ার খরচ চালানোর মতো অর্থও তাঁদের কাছে নেই বলে ভিডিও বার্তায় জানিয়েছে দুই ভাই। ভিডিও বার্তায় তাঁরা আরও জানান যে, তাঁদের ভিসা রিনিউ না করে এবং কোনও বেতন বা এককালীন টাকাপয়সা না দিয়ে সংস্থা তাঁদের কাজ থেকে বসিয়ে দিয়েছে। এমনকি কোম্পানি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নিজেদের ব্যবস্থায় দেশে ফিরতে হবে, সংস্থা কোনও দায়ভার নেবে না।

    তাপস ও তাঁর সঙ্গীরা সংকটজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত দেশে ফেরার ব্যবস্থা করার জন্য তাঁরা ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ভিডিও বার্তায় আকুল আবেদন জানিয়েছেন। দুই ভাই বাড়িতে ফোন করে জানান, শুধু তাঁরা নন, নদিয়া জেলার ২৫-২৬ জন শ্রমিক সৌদি আরবের ওই কোম্পানিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। এ রাজ্য থেকে সেই সংখ্যা প্রায় ৭০। তাঁরা সকলেই বর্তমানে একই সমস্যার মধ্যে রয়েছেন।

    এদিকে, দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রবীণ বিশাখা কাপাসিয়া চোখের জলে ভাসতে ভাসতে জানান, তাঁর দুই নাতি বিদেশে খুব বিপদে আছে। তাঁদের কাছে কোনও টাকাপয়সা নেই, ঠিকমতো খাবার পাচ্ছেন না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হাতজোড় করে তাঁর আকুল আবেদন, যাতে অবিলম্বে তাঁর নাতিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

    বাবা তপন কাপাসিয়াও জানান যে, গত প্রায় দুই মাস ধরে দুই ছেলেকে কাজ থেকে বসিয়ে রেখে অন্য জায়গায় রাখা হয়েছে। কোম্পানি চিকিৎসা বা দেশে ফেরার কোনো দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করছে ছেলেরা জানিয়েছে। এই অবস্থায় দুই ছেলেকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী, উভয়েরই হস্তক্ষেপ ও সহায়তা প্রার্থনা করছেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)