• বানভাসি ঘাটালের স্কুলে ঢুকল সাপ, প্লাবিত খানাকুলে বন্ধ ফেরি পরিষেবা
    এই সময় | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • টানা বৃষ্টিতে বানভাসি পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল। এরই পাশপাশি প্লাবিত হয়েছে লাগোয়া হুগলি জেলার খানাকুলও। ডিভিসির ছাড়া জলে প্লাবিত হতে শুরু করেছে খানাকুলের নীচু এলাকাগুলি। বিভিন্ন নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেতে শুরু করায় অনির্দিষ্টকালের জন্য খানাকুলের সব নদীতে ফেরি পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। ফলে বহু গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই চিত্র ঘাটালেও। সেখানে জলমগ্ন হয়ে পড়া ক্লাসরুমে সাপও ঢুকে পড়েছে।

    বর্ষায় বানভাসি ঘাটাল

    বর্ষা এলেই বন্যার জলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ঘাটাল। চলতি বছরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টির পাশাপাশি জলাধার থেকে ছাড়া জলে জল বেড়েছে শিলাবতী এবং ঝুমি নদীতে। এর জেরে ঘাটাল ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা, একাধিক গ্রাম এবং ঘাটাল পুরসভার প্রায় ১২টি ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়েছে। ঘাটালের ২ নম্বর ওয়ার্ড আড়গোড়া এলাকায় প্লাবিত হয়েছে রাজ্য সড়ক। একাধিক দোকান জলে ডুবেছে। জল ঢুকেছে একাধিক বাড়িতেও। ঘাটাল ব্লকের অজবনগর ১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত সহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, আরও বৃষ্টি হলে পুজোর আছে দুর্ভোগ বাড়বে তাঁদের।

    রাস্তা, বাড়িঘর ও কৃষিজমি জলের তলায় চলে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বহু জায়গায় ডিঙি নৌকাই এখন যাতায়াতের প্রধান ভরসা।

    জলমগ্ন ক্লাসরুমে সাপ

    বন্যার জল ঢুকে পড়েছে একাধিক স্কুলেও। শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘাটাল পুরসভা এলাকার ৩৪টি প্রাইমারি স্কুলের মধ্যে ২০টি এবং একটি জুনিয়র হাইস্কুল জলমগ্ন । কোথাও স্কুলের উঠোনে জল, কোথাও আবার জল ঢুকে পড়েছে ক্লাসরুমেও। জলে ডুবে গিয়েছে পড়ুয়াদের বসার বেঞ্চ, টেবিল-চেয়ার । এমনকি জলমগ্ন স্কুলের ক্লাসরুমে সাপ ঢুকে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। প্রতি বছর বন্যার সময় স্কুল বন্ধ রাখতে হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় ব্যাপকভাবে ব্যাঘাত ঘটে বলেও জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

    মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন

    ঘাটালের এই জল-যন্ত্রণা নতুন নয়।  প্রতি বছরই একই রকম দুর্ভোগ পোহাতে হয় বাসিন্দাদের। তাঁদের দাবি, মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত না হওয়ার জন্যই এই সমস্যা। সেই কারণেই এই মাস্টার প্ল্যান দ্রুত বাস্তবায়িত করে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন তাঁরা। তবে, আশার কথা শুনিয়েছেন ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট। তিনি জানান, এত দিন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের নামে মানুষকে বোকা বানিয়ে প্রচুর টাকা তছরূপ করা হয়েছে। তবে এ বার সেই কাজ শুরু হয়েছে। ওই কাজ সম্পূর্ণ হলে ঘাটালবাসীর ভোগান্তি কমবে।

    যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বহু গ্রাম

    লাগাতার বৃষ্টির জেরে ডিভিসি জল ছাড়তেই প্লাবিত হয়েছে খানাকুল-সহ হুগলি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। জেলার অন্তত ৭টি ব্লকের ১৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি। বিভিন্ন নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মুণ্ডেশ্বরী ও দামোদর নদীর জল এখন বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। এরই সঙ্গে, শুক্রবার থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য খানাকুলের সব নদীতে ফেরি পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। ফলে বহু গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন ডিঙি নৌকা। দামোদরের জল ঢুকছে পুরশুড়াতেও।

    প্লাবিত এলাকায় অনেক বাসিন্দাকে উদ্ধার করে রাখা হয়েছে ত্রাণ শিবিরে। পাশাপাশি প্লাবিত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খানাকুলের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ এবং হুগলির জেলাশাসক। নীচু এলাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

  • Link to this news (এই সময়)