এই সময়: ক্যামাক স্ট্রিটের বহুতলে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস ব্যবহারে আপাতত নিষেধাজ্ঞা থাকবে বলে জানাল রাজ্য দমকল বিভাগ। ওই বহুতলের সাত ও আট তলায় রয়েছে অভিষেকের অফিস। ওই দু’টি ফ্লোর ও বেসমেন্টের ফায়ার লাইসেন্স রিনিউ করা হয়নি বলে দাবি দমকলের। এ ছাড়া অগ্নিসুরক্ষা বিধি সংক্রান্ত বেশকিছু নিয়ম ভাঙা হয়েছে বলেও দাবি তাদের। গত সোমবার ফায়ার অডিটের সময়ে এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন দমকলের আধিকারিকরা। যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় ওই দু’টি ফ্লোরে যাঁরা থাকেন (অকুপায়ার) তাঁদের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। নোটিস দেওয়া হয়েছিল ওই বহুতলের মালিক পক্ষকেও। অভিষেকের অফিস যে ফ্লোরে রয়েছে, সেই অফিস কর্তৃপক্ষ নোটিস পেয়ে পুলিশের কাছে হাজিরা দিলেও বহুতলের মালিকদের তরফে কেউ শুনানিতে অংশ নেননি বলে দমকল সূত্রের খবর। সেই কারণেই এ দিন দু’টি ফ্লোর এবং বেসমেন্ট ব্যবহারে আপাতত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ওই দু’টি ফ্লোর ও বেসমেন্ট খালি করে দিতে হবে। যদিও এ দিন রাত পর্যন্ত সেগুলি খালি হয়নি। এ নিয়ে দমকলের তরফে নতুন করে কোনও পদক্ষেপ করা হয় কি না, সেটাই দেখার।
৯ নম্বর অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর সরণির (ক্যামাক স্ট্রিট) ওই বহুতলের সাত ও আট তলায় অভিষেকের অফিস রয়েছে। গত সপ্তাহে সেখানে তৃণমূলের বিল বোর্ড খুলতে গিয়ে পুলিশ ও পুরকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের নেতা–কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের হয় শেক্সপিয়র সরণি থানায়। পুলিশের তলবে ইতিমধ্যে থানায় হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়–সহ তৃণমূল নেতারা। বিল বোর্ড নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ওই বহুতলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে যান দমকলের অফিসাররা। তখনই সাত ও আট তলায় বেশকিছু খামতি ধরা পড়ে। তারপরেই নোটিস পাঠান দমকলের অধিকর্তা। এ দিন দমকলের এই তৎপরতা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কালীঘাট–তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ‘নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এই সব করা হচ্ছে।’ রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার অবশ্য বলেন, ‘আইন আইনের পথে চলবে।’
দমকল সূত্রের খবর, সাত ও আট তলার অকুপায়ারদের তরফে দাবি করা হয়, বহুতলের নিরাপত্তার বন্দোবস্তের দায়িত্ব বাড়ির মালিক কর্তৃপক্ষের। ফায়ার লাইসেন্সের মেয়াদ ২০২৬–এর ১০ অগস্ট শেষ হয়ে গিয়েছে। নতুন করে তা রিনিউয়ের সুপারিশ করা হলেও মালিকপক্ষ সে বিষয়ে পদক্ষেপ করেননি। যদিও মালিক পক্ষের বক্তব্য, পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য তারা আইনি পরামর্শ নিচ্ছে। এই নোটিসের প্রতিলিপি কলকাতা পুরসভা, শেক্সপিয়র সরণি থানা এবং সিইএসসিকেও পাঠানো হয়েছে।