সুশান্ত বণিক, আসানসোল
এক সমকামী তরুণীকে তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠিয়েছিল পরিবার। তাঁর বান্ধবী মারফত খবর পেয়ে কলকাতার এক এলবিটি (লেসবিয়ান বাইসেক্সুয়াল ট্রান্সজেন্ডার) সংগঠন 'স্যাফো ফর ইকোয়ালিটি' ওই তরুণীকে আসানসোলের একটি নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে উদ্ধার করেছে। তাঁকে ফেরানো হয়েছে তাঁর বান্ধবীর কাছে। দু'জনেই এখন রয়েছেন নিরাপদে। এই ঘটনায় নিন্দায় সরব হয়েছেন সমাজকর্মীরা।
প্রাপ্তবয়স্ক ওই দুই তরুণী পশ্চিম বর্ধমান জেলার বুদবুদের বাসিন্দা। দীর্ঘদিনের পরিচিতও। স্বেচ্ছায় তাঁরা বৈবাহিক জীবনে আবদ্ধ হতে চান। অভিযোগ, বিষয়টি জানার পরে দুই তরুণীর একজনের উপরে পরিবারের সদস্যরা মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। কলকাতার ওই সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৪ জুলাই তাঁকে আসানসোলের একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি করায় তাঁর পরিবার। তরুণীর অভিযোগ, সে দিন গভীর রাতে পাঁচ জন পুরুষ নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে একটি গাড়িতে তোলেন। সবটাই হয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে। ওই তরুণী নিজের মোবাইল থেকে বান্ধবীকে ফোন করেন। কিন্তু তাঁর ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বান্ধবী শুধু শুনতে পান, ওই তরুণী চিৎকার করে জানতে চাইছেন কোথায় এবং কেন তাঁকে এ ভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ঘটনা যে মোটেও স্বাভাবিক নয়, তা আঁচ করে ওই তরুণীর বান্ধবী সাহায্য চেয়ে 'স্যাফো ফর ইকোয়ালিটি'র দ্বারস্থ হন। কিন্তু তরুণীকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা জানতে অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সংগঠনের সদস্যরা সেই তরুণীর বান্ধবীকে নিয়ে আসানসোলের ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রে আসেন। শুরুতে নেশামুক্তি কেন্দ্রের তরফে সহযোগিতা করা হয়নি বলে অভিযোগ। পরে তরুণীর মা–বাবাকে সেখানে আনা হলে তাঁদের হাতে তরুণীকে ছাড়া হয়। রাত প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ আসানসোল উত্তর থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে তরুণীকে তাঁর বান্ধবীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক সংগঠনের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সমকামিতা কোনও ব্যধি নয়, তা হলে কেন তরুণীকে নেশামুক্তি কেন্দ্রে বন্দি করে রাখা হবে? এই বিষয়ে বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী জয়া মিত্র বলেন, 'সাধারণ ভাবে সমকামিতা সমাজে চিরকাল ছিল। এখনও আছে। এটা একান্তই ব্যক্তিগত অধিকারের বিষয়। তার জন্য কারও উপরে নিপীড়ন বা অত্যাচার করা অন্যায়।'
'স্যাফো ফর ইকোয়ালিটি'র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মীনাক্ষী সান্যাল বললেন, 'এই রকম ঘটনা যে কত ঘটছে, তা সীমাহীন। যবে থেকে সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে ভাবা হয়েছে, তাতে সমকামীদের মধ্যে ভয় আরও বেড়েছে। সেই ভয়ে নিজেদের সত্তা অনেকেই আর সামনে আনতে পারছেন না। আইনের সংস্কারের মতো সমাজের বদলেরও ভীষণ ভাবে প্রয়োজন।'