দিল্লির যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। সেই ঘটনা তাঁকে অত্যন্ত বিচলিত করেছে বলে মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া। দিল্লিতে প্রাক্তন নিরাপত্তা সচিব যশোবর্ধন আজাদের ‘পুলিশিং দ্য রিপাবলিক’ বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এটা গভীর উদ্বেগের বিষয়।’ পুলিশের উপরে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও সতর্ক করেন তিনি।
যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া।
তরুণ পুলিশ অফিসারদের বিক্ষোভকারীদের উপরে চড়াও হতে দেখে হতাশ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিচারপতি।
পুলিশের নিরপেক্ষতা ও সংযম বজায় রাখা জরুরি এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সংবিধান, নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সততা মেনে চলার বার্তা দিয়েছেন বিচারপতি।
মতপ্রকাশের জন্য পড়ুয়াদের শাস্তির ভয় দেখানো অসাংবিধানিক ও ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমতকে স্বাগত জানানো উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেছিলেন ছাত্রদের একাংশ। সেখান থেকেই ‘চলো সংসদ’ অভিযান করেন তাঁরা। তখনই পড়ুয়াদের উপরে লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ। বিচারপতি ভুঁইয়ার কথায়, ‘তরুণ পুলিশ অফিসাররা ব্যক্তিগত ভাবে বিক্ষোভকারীদের উপরে চড়াও হচ্ছেন দেখে হতাশ হয়েছি।’ একই সঙ্গে পুলিশের কাছ থেকে নিরপেক্ষতা কাম্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিচারপতির কথায়, ‘পুলিশকর্মীদের কাছ থেকে যে নিরপেক্ষতা ও সংযম প্রত্যাশিত, তা যেন কোনও ভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। এটি সত্যিই গভীর উদ্বেগের বিষয়।’
অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করেও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা যায় বলে মনে করেন বিচারপতি ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় বাঁশি ও লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশই সাধারণ মানুষের কাছে রাষ্ট্রের প্রতীক। কারও সঙ্গে অন্যায় হয়েছে মনে হলে তাঁরা পুলিশের কাছে যান।’ বিচারপতি মনে করেন, ‘সেই কারণেই পুলিশের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা উচিত।’ একই সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথাও বলেন তিনি।
পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিচারপতি। তাঁর কথায়, ‘এটা জঘন্য অপরাধ।’ ‘আইনের শাসন’ বজায় রাখার জন্য সংবিধান মেনে চলা, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, পেশাদার ভূমিকা পালনের সঙ্গে সততা ও ধর্মনিরপেক্ষতা প্রয়োজন বলেও মনে করিয়ে দেন বিচারপতি। একই সঙ্গে পুলিশ ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, রবিবার বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া বলেছিলেন, ‘কোনও বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ বা প্রশ্ন করার জন্য পড়ুয়াদের শাস্তির ভয় দেখানো যায় না।’ এমন কাজ অসাংবিধানিক এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বলেও মনে করেন তিনি। দিল্লির ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটির ১৩তম সমাবর্তনে স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় তিনি আরও বলেছিলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এমন জায়গা হওয়া উচিত, যেখানে প্রতিষ্ঠিত মত ও ধারণাগুলিকে প্রশ্ন করার সুযোগ থাকবে। মতপার্থক্যকে শত্রুতার চোখে দেখা উচিত নয়।’
কোন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া?
দিল্লির যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
যন্তর মন্তরে কেন বিক্ষোভ করেছিলেন পড়ুয়ারা?
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে একাংশ পড়ুয়া যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেছিলেন। পরে তাঁরা ‘চলো সংসদ’ অভিযান করেন।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কী বলেছেন বিচারপতি?
উত্তর: পুলিশের কাছ থেকে নিরপেক্ষতা ও সংযম প্রত্যাশিত বলে জানিয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেছেন।
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে তাঁর বক্তব্য কী?
উত্তর: পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এগুলিকে ‘জঘন্য অপরাধ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিচারপতি।
পড়ুয়াদের মতপ্রকাশ নিয়ে কী বলেছেন তিনি?
উত্তর: কোনও বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ বা প্রশ্ন করার জন্য পড়ুয়াদের শাস্তির ভয় দেখানো যায় না বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত মত ও ধারণাকে প্রশ্ন করার সুযোগ থাকা উচিত।