• দু’নৌকায় পা দিয়ে চলতে পারে না দিল্লি পুলিশ, তোপ কংগ্রেসের, ফেসিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তি ঘিরে উঠছে প্রশ্ন
    বর্তমান | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: যন্তরমন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালীন ২ হাজার ৮৭৩ দাগি অপরাধীর উপস্থিতি চিহ্নিত করা গিয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। যদিও ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি, এমন অন্তত ২৫ জনের খোঁজ মিলেছে যারা সেই সময় জেলের মধ্যেই ছিল। এই ইস্যুতে বিরোধী শিবির ও বিভিন্ন সংগঠনের তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া সামনে আসতে শুরু করেছে। হলফনামায় দিল্লি পুলিশের পেশ করা দাগিদের ওই তালিকা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (আইএফএফ)। সুর চড়িয়েছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরাও।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ওই রিপোর্টের উল্লেখ করে শুক্রবার এক্স হ্যান্ডলে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা লিখেছেন, ‘তদন্তের ফলাফল বিস্ময়কর ও খুবই উদ্বেগজনক। দু’টি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে—হয় ফেসিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তিটি ‘ভয়ংকরভাবে অবিশ্বাস্য’, না হলে পুলিশই হিংসা উসকে দিতে এবং পড়ুয়াদের আন্দোলনকে কলঙ্কিত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের প্রতিবাদস্থলে নিয়ে এসেছিল। প্রযুক্তিটি যদি ভরসাযোগ্যই না হয়, তাহলে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের চিহ্নিত করতে কেন সেটির ব্যবহার করছে? আর প্রযুক্তিটি যথাযথ হলে জেলে বসে থাকা সত্ত্বেও দুষ্কৃতীরা কীভাবে প্রতিবাদস্থলে এসে বিক্ষোভ দেখাল? দিল্লি পুলিশ দু’নৌকায় পা দিয়ে চলতে পারে না।’ 

    কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে আইনজীবী তথা সমাজকর্মী বৃন্দা গ্রোভারের তরফেও। তিনি জানিয়েছেন, ফেসিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তি একইসঙ্গে ‘বেআইনি ও নির্বোধ’। তদন্তের ফলাফল থেকে দেখা যাচ্ছে, এটি ‘গভীরভাবে ত্রুটিপূর্ণ’। গ্রোভারের অভিযোগ, যন্তরমন্তরের প্রতিবাদকে ‘কলঙ্কিত’ করতে সরকার ও দিল্লি পুলিশ এই প্রযুক্তির ব্যবহার করেছে। সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজও এই তদন্তমূলক প্রতিবেদনের ফলাফলে ‘হতবাক’। তাঁর প্রশ্ন, যন্তরমন্তরে ২ হাজার ৮৭৩ জন দাগির উপস্থিতি নিয়ে সরকার ও পুলিশ সুপ্রিম কোর্টকে বিভ্রান্ত করেনি তো?
  • Link to this news (বর্তমান)