‘আকাশে চোখ’! দেশের প্রথম জিও-ইমেজিং স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ করল ইসরো
বর্তমান | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শ্রীহরিকোটা: ফের ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। দেশের প্রথম জিও-অরবিট ইমেজিং স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। শুক্রবার ভোররাত ২টো ৫৫ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশ শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেশ সেন্টারের ২ নম্বর লঞ্চ প্যাড থেকে জিএসএলভি এফ-১৭ (জিএসএলভি-এমকে ২ শ্রেণিভুক্ত) রকেটের মাধ্যমে ২,৩৬৭ কেজি ওজনের ইওএস-০৫ কৃত্রিম উপগ্রহকে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কিমি উচ্চতার নিখুঁত কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। এটিই ভারতের পক্ষে জিও অরবিটে প্রতিস্থাপনকারী সবথেকে বেশি ওজনের স্যাটেলাইট। তবে এর আগে মহকোশে ৪,৪১০ কেজি ওজনের একটি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট (সিএমএস-০৩) এবং ৬,১০০ কেজি ওজনের একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট (এম ৬ ব্লু বার্ড ব্লক-২) পাঠিয়েছিল ইসরোর বাহুবলী রকেট এলভিএম-৩।
ইসরোর এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত এক সিনিয়র বিজ্ঞানী এদিন উৎক্ষেপণ হওয়া স্যাটেলাইটটিকে ‘আকাশে ভারতের চোখ’ বলে বর্ণনা করেছেন। এই উপগ্রহটি রিয়েল-টাইম ছবি তুলবে, যা আবহাওয়া, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত সুরক্ষা সহ একাধিক ক্ষেত্রে আগামী ৯ বছর দেশকে সহায়তা করবে গুরুত্বপূর্ণ নথি দিয়ে। তবে দীর্ঘদিন বিভিন্নমহলে জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, এটি একটি গুপ্তচর উপগ্রহ। ইসরো অবশ্য তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। জানানো হয়েছে, বর্তমানে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৭০০-৮০০ কিমি উচ্চতায় অর্থাৎ, লো-আর্থ অরবিটে (এলইও) থাকা কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে আবহাওয়া, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত সুরক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে নজরদারি করা হয়। তবে পদ্ধতিগত কারণে সেগুলির কোনোটাই ভারত উপমহাদেশের উপর সব সময় রিয়েল টাইম ডেটা দেয় না। ইওএস-০৫ এখানেই ভারতের শক্তি অনেকটা বাড়াবে। সফল উৎক্ষেপণের পর ইসরো প্রধান ভি নারায়ণন বলেন, ‘এটি শ্রীহরিকোটা থেকে ১০৭তম উৎক্ষেপণ এবং জিএসএলভি-র ১৯তম মিশন। চলতি আর্থিক বছরে এটি আমাদের প্রথম সফল অভিযান। এই বছরে আমাদের আরও ৬টি অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম গগনযান।’ ২০২১ সালে জিএসএলভি এফ-১০ রকেটে করে ইওএস-০৩ উপগ্রহ পাঠানোর মিশনটি ব্যর্থ হয়। তারই পরিবর্ত এবারের এই স্যাটেলাইট। গত ১২ জানুয়ারি ১৬টি উপগ্রহকে কক্ষপথে স্থাপনে ব্যর্থ হয়েছিল ইসরোর পিএসএলভি-সি৬২ রকেট। এবারের অভিযান সফল করতে গত পাঁচ-ছ’বছর ধরে লাগতার কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। তাই এদিনের ভোরের এই সফল উৎক্ষেপণ ইসরোর সার্বিক মনোবল বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।