এসআইআরের পর ভোটার লিস্টে নাম উঠলেও ঠাঁই হোল্ডিং সেন্টারে, ডালখোলার দিনমজুর বৃদ্ধকে নিয়ে তুমুল বিতর্ক
বর্তমান | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: এসআইআরের পর ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ডালখোলার ৬৬ বছরের এক বৃদ্ধকে বাংলাদেশি সন্দেহে হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের এমনই অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বৃদ্ধের নাম জলিল আখতার। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর। তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবি, বৈধ নথিপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তাঁকে হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়। চাকুলিয়া ও ফুলবাড়ির দু’টি হোল্ডিং সেন্টারে বেশ কিছুদিন থাকার পর বর্তমানে জেলে ঠাঁই হয়েছে জলিলের।
এসআইআরের পর ভোটার তালিকায় নাম থাকা শুধু নয়, ওই বৃদ্ধ এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন বলে দাবি তাঁর মেয়ে কুলসুম খাতুনের। তারপরও তাঁকে বাংলাদেশি সন্দেহে কীভাবে গ্রেপ্তার করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। ইসলামপুরের পুলিশ সুপার রাকেশ সিং অবশ্য শুক্রবার বলেন, ‘বৈধ নথি দেখাতে না পারায় ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা রুজু করে এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। ধৃতকে আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের নির্দেশে এখন জুডিশিয়াল কাস্টডিতে আছে। এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’
জলিল আখতার ডালখোলার বাজারগাঁও-২ পঞ্চায়েতের বাগরই গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর মেয়ে কুলসুম খাতুন বলেন, ‘১৬ জুন রাতে বাড়িতে হানা দিয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় ডালখোলা থানার পুলিশ। পরদিন সকালে আমরা থানায় যাই। তখন বলা হয়, বাবার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, এমন দু’জন আত্মীয়ের বৈধ নথি দেখাতে পারলে বাবাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। সেই মতো আমরা আত্মীয়দের নথিপত্র জোগাড় করে পরে আবার থানায় যাই। কিন্তু তখন পুলিশ আমাদের সঙ্গে আর কথা বলতে চায়নি।’
পরিবারের আরও দাবি, প্রথমে কয়েকদিন চাকুলিয়ার নিজামপুর হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয় জলিলকে। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় শিলিগুড়ির কাছে ফুলবাড়ি হোল্ডিং সেন্টারে। সেখান থেকে তাঁকে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হতে পারে—এমনটা জানতে পেরে ফের নথিপত্র নিয়ে ইসলামপুরের পুলিশকর্তাদের দ্বারস্থ হন তাঁরা।
বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে রাজ্যের পুলিশকে পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সামিরুল ইসলাম। এরপরই এনিয়ে আলোড়ন ছড়ায়। ইসলামপুরের পুলিশ সুপারের অবশ্য দাবি, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে এসে বিয়ে করে এখানে সংসার পাতেন। এখানকার কারও সঙ্গে ‘লিংকেজ’ নথি দেখাতে পারেননি। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।