• আমি তৃণমূল করছি না,চেয়ারম্যান পদে মঙ্গলবার ইস্তফা দেব, ঘোষণা কৃষ্ণেন্দুর
    বর্তমান | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ব্রতীন দাস, মালদহ: ‘আমি এখন তৃণমূল করছি না’। চেয়ারম্যান পদে ইস্তফার দিনক্ষণ জানিয়ে শুক্রবার এমনটাই ঘোষণা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর। আগামী মঙ্গলবার তিনি ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ছেন বলে জানিয়েছেন এদিন। এদিকে, তৃণমূল ছেড়ে কৃষ্ণেন্দু কোন দলে যোগ দিতে পারেন, তা নিয়ে ইংলিশবাজার তথা মালদহের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা ছড়িয়েছে। সেক্ষেত্রে কৃষ্ণেন্দু কি তাঁর পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরে যাবেন নাকি বিজেপি শিবিরে নাম লেখাতে পারেন, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। প্রশ্নের উত্তরে এদিন ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যানের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, রাজনীতিতে সবই সম্ভব। সময় হলেই দেখতে পাবেন। তবে এর আগে আমি ৬ বছর পার্টির কোনো পদে ছিলাম না। তারপরও বিধায়ক হয়েছিলাম। ফলে এখনই আমাকে কোনো দলে নাম লেখাতে হবে, এমনটা তো নাও হতে পারে। তৃণমূলের উপর ক্ষোভের কারণ হিসাবে কৃষ্ণেন্দুর মন্তব্য, একবারের জন্য নেত্রী যেখানে খোঁজ নেন না, সেখানে সেই দল কেন করব?

    রাজ্যে পালাবদলের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যানের পদে তিনি যে ইস্তফা দিতে চান, তা আগেই জানিয়েছিলেন কৃষ্ণেন্দু। এদিন তিনি বলেন, অস্থায়ী কর্মীদের বেতন সহ কিছু দায়বদ্ধতার কারণে চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে একটু দেরি করছিলাম। কিন্তু ওই পদে আমার আর থাকা সম্ভব হচ্ছে না। ৮ সেপ্টেম্বর জেলাশাসক সহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলে আমি ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেব। এনিয়ে বিজেপির দক্ষিণ মালদহ জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য, বেশ কিছুদিন ধরে শুনছি, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। আগে পদত্যাগ করুন, তারপর যা বলার বলব। সিপিএমের জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্রের বক্তব্য, বামফ্রন্টের সরকারের সময়েও তো কৃষ্ণেন্দুবাবু চেয়ারম্যান ছিলেন। বিরোধী দলের পুরসভা বলে বাম সরকার কোনো উন্নয়নমূলক কাজে সেসময় বাধা দেয়নি। তাহলে বিজেপি সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর কৃষ্ণেন্দুবাবুকে কেন পদত্যাগ করতে হচ্ছে, তা স্পষ্ট করুন তিনি। কোনো চাপের কাছে তিনি নতি স্বীকার করছেন, নাকি কোনো কিছু থেকে নিজেকে বাঁচাতে তাঁকে পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ ছাড়তে হচ্ছে, সেটা ইংলিশবাজারের মানুষের জানা দরকার। ইস্তফার কারণ স্পষ্ট না করলেও কৃষ্ণেন্দুর মন্তব্য, পুরসভা চালাতে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা দরকার হয়। রাজ্যের কাছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা বকেয়া। মিউটেশনের সঙ্গে যে ডেভেলপমেন্ট ফি নেওয়া হতো, সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, রাজ্যের অনুমতি ছাড়া ওই টাকা নেওয়া যাবে না। প্রায় ১৬০০ অস্থায়ী কর্মীর বেতন, পেনশনের ৬০ শতাংশ টাকা, গাড়ির তেল সহ আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে মাসে ২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা লাগে। কোথা থেকে আসবে ওই টাকা। পুরসভার এখন যা আর্থিক অবস্থা, অস্থায়ী কর্মীদের বেতনের টাকা কীভাবে জোগাড় হবে তার ঠিক নেই। 
  • Link to this news (বর্তমান)