নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রাজ্যের পুরসভারগুলির ভাঁড়ে মা ভবানী দশা। আসানসোল, দুর্গাপুর, বর্ধমান বৃহৎ পুর এলাকা। যেখানে পুরসভার আয়ের বিপুল উৎস রয়েছে, সেখানেও পুরকর্মীদের পেনশন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কোটি কোটি টাকা পুরকর ফাঁকি দেওয়ার জন্যই এই দশা মনে করছে পুরদপ্তর। তাদের অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা পুর আধিকারিককে ‘ম্যানেজ’ করে কোটি কোটি টাকা পুরকর বাকি রাখছেন ব্যবসায়ীরা। বহু ক্ষেত্রেই পুরসভা থেকে প্ল্যান পাশ না করিয়েই বিল্ডিং তৈরি হয়ে যাচ্ছে। তেমনি পুরসভাগুলির হোডিং, পার্কিংয়ের আয় নিয়েও ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। এই অবস্থায় পুরদপ্তর পুরসভারগুলির উপর কেন্দ্রীয় নজরদারি শুরু করতে চলেছে। প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে এমন ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে যেখানে কম্পিউটারের মাউসের এক ক্লিকেই রাজ্যের ১২০টি পুরসভার বিস্তারিত তথ্য ফুটে উঠবে। কোথায় কত সম্পত্তি কর আদায় হয়েছে। কোথায় কত কর আদায় বাকি রয়েছে, পার্কিং, হোডিংয়ের টেন্ডার কখন হয়েছে। কত টাকা জমা পড়েছে। সেই সব তথ্য উঠে আসবে। তাই স্থানীয় প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেও কর ফাঁকি দেওয়ার কোন সুযোগ আর থাকবে না।পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘আমার দপ্তরের তৎকালীন তৃণমূল সরকার যা দুনীর্তি করেছে তা বের হলে গিনিস বুকে রেকর্ড হবে। পুর এলাকাগুলিতেও বিপুল আর্থিক বেনিয়ম রয়েছে। কর ফাঁকি দেওয়া রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আমরা একটি ড্যাসবোর্ড তৈরি করছি। যেখানে এক ক্লিক করলেই ১২০টি পুর এলাকার প্রয়োজনীয় সব তথ্য উঠে আসবে। তা দিয়ে ধারাবাহিক নজরদারি চলবে।’ সম্পত্তি কর বাকি রয়েছে আসানসোল পুরসভারই ১৭০০টি প্রতিষ্ঠানে। বৃহৎ বৃহৎ প্রতিষ্ঠান কিংবা সংস্থা তারা কোটি কোটি টাকা পুরকর বকেয়া রেখেছে। পাশাপাশি অবৈধ নির্মাণ করার জন্য জামুড়িয়া শিল্পতালুকের কারখানাগুলিকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা ধার্য করেছিল আসানসোল পুরসভা। সেই টাকা আজও আদায় হয়নি। অভিযোগ, শহরের হোডিং ও পার্কিংয়ের বেনিয়ম নিয়ে। একই অবস্থার দুর্গাপুরের ক্ষেত্রেও। যাঁর ফলে দুই মেগা শিল্প শহর হয়েও আর্থিক অবস্থা করুণ। পশ্চিম বর্ধমানের দুই পুরসভা। শুধু এই দুই পুরসভাই নয় রাজ্যের ছোট বড় সব পুরসভারই একই দশা। স্থানীয় প্রশাসন, পুর প্রতিধিদের ম্যানেজ করে বিপুল কর ফাঁকি। আর এই কর না পেয়ে আর্থিক হাল তলানিতে ঠেকেছে পুরসভাগুলির। তাই এবার পুরকর ফাঁকি দেওয়া রুখতে বন্দবস্তই ভাঙতে চায় পুরদপ্তর। সেই কারণেই যাবতীয় তথ্যকে একত্রিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পুরমন্ত্রী বলেন, পঞ্চায়েত কর্মীদের পেনশন সরকার দেয়। কিন্তু পুরকর্মীদের পেনশন ৬০ শতাংশ রাজ্য ও ৪০ শতাংশ সেই পুরসভার নিজস্ব আয় থেকে দিতে হয়। পুরসভা নিজের অংশটুকু অনেক সময়ে দিতে পারছে না। আপাতত রাজ্য সরকার সাহায্য করছে। কিন্তু পুরসভার কর ফাঁকি বন্ধ করতে হয়।