• চোখের চিকিৎসায় বিদেশে অভিষেক, ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করতে দমকলের চিঠি বাড়ির মালিককে
    বর্তমান | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে। তাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয় খালি করার নির্দেশ দিয়েছে দমকল বিভাগ। ওই বিল্ডিংয়ের মালিকের কাছে রাজ্যের দমকল দপ্তর থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার এই চিঠি সামনে এসেছে। ৯, ক্যামাক স্ট্রিটের ৬ ও ৭ তলায় মমতাপন্থী তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয় রয়েছে। দু’টি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে কার্যালয় চলে অভিষেকের। গত ৩১ আগস্ট সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে যান দমকলের আধিকারিকরা। তারপর বৃহস্পতিবার একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠকে ভাড়াটিয়া অর্থাৎ অভিষেকের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা হাজির থাকলেও বিল্ডিংয়ের মালিকপক্ষের কেউ হাজির ছিলেন না। তারপরই কড়া অবস্থান নিল দমকল দপ্তর। বিল্ডিংয়ের মালিককে নোটিস পাঠিয়ে বলা হয়েছে, বেসমেন্ট এবং ৬ ও ৭ তলার অংশ খালি করতে হবে। আপাতত ওই অংশ ব্যবহার করা যাবে না। অগ্নি সুরক্ষায় একাধিক ঘাটতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। তাছাড়া ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেটের মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে। তা পুনর্নবীকরণ করা হয়নি। এই অবস্থায় ওই বিল্ডিংয়ের ওই তিনটি অংশ ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ওই অংশ ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। দমকল বিভাগ তার এই নির্দেশের কপি ওই বিল্ডিংয়ের মালিক ছাড়াও কলকাতা পুরসভার কমিশনার, শেক্সপিয়র সরণি থানা এবং সিইএসসির কাছে পাঠিয়েছে। তৃণমূলের আইনজীবী অর্ক নাগ জানিয়েছেন, চিঠিটি পাঠানো হয়েছে বাড়ির মালিককে। বাড়ির মালিক কী পদক্ষেপ করেন, সেটা দেখে আমরা আইনগত পদক্ষেপ করব। একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, ওই বিল্ডিংয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম তল পর্যন্ত অগ্নিনির্বাপর্ণের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি চোখে পড়ল না। শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ের দিকেই টার্গেট কেন? বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘ওই বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া গোটা বিষয়টি বলতে পারবেন। তবে পরপর যে ঘটনা ঘটছে, তাতে অভিষেককে যে টার্গেট করা হচ্ছে, সেটা স্পষ্ট।’ যদিও বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কেউ যদি জবরদখল করে থাকেন, আর সেখানে যদি প্রাণের ঝুঁকি থাকে, তাহলে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা তো নেবেই।’ মমতাপন্থী তৃণমূল নেতারা জানাচ্ছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছেন। ঠিক এই সময় তাঁর কার্যালয়ে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ। তারপর সেই কার্যালয় খালি করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এর আগে ২৭ আগস্ট ওই কার্যালয় থেকে তৃণমূলের বিলবোর্ড খোলা হয়েছিল। সবের পিছনেই কোনো পরিকল্পনা কাজ করছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
  • Link to this news (বর্তমান)