• উত্তরবঙ্গে রেল যোগাযোগ বিপর্যস্ত, ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাসভাড়া, বিমান খরচ ছুঁল ১৫ হাজার
    বর্তমান | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বহরমপুর: নিউ ফরাক্কার কাছে রেললাইনের নীচে ধস। আর তার জেরে বৃহস্পতি ও শুক্রবার কার্যত বিপর্যস্ত উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গের ট্রেন পরিষেবা। গত ৪০ ঘণ্টায় একগুচ্ছ উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন বাতিল হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে—শতাব্দী, তেভাগা, তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেস সহ বহু ট্রেন। সেই সুযোগে যাত্রীদের পকেট কেটে বাড়তি ভাড়া আদায় করে মুনাফা লোটার খেলায় নেমেছে বিমান ও বাস পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা। ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে প্লেনের টিকিট পিছু দাম। বেসরকারি বাসে একটি সিট পেতে যাত্রীদের ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চোকাতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আশার কথা শুনিয়েছে পূর্ব রেল। সংস্থার মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি শুক্রবার সন্ধ্যায় দাবি করেছেন, ধসে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতির কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। আজ, শনিবারই চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে। যদিও কখন থেকে ট্রেন সুনির্দিষ্ট টাইম টেবিল মেনে উত্তরবঙ্গ থেকে আপ-ডাউনে ছুটবে, তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি।  

    টানা বৃষ্টির জেরে নিউ ফরাক্কা স্টেশনের মুখে আপ লাইনে বৃহস্পতিবার ভোররাতে আচমকাই রেলের ট্র্যাক কয়েক ফুট বসে যায়। চালকের তৎপরতায় বড়োসড়ো দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় আপ লাইনের একটি দূরপাল্লার ট্রেন। নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কেবিন থেকে ধুলিয়ানের দিকে প্রায় ৮০০ মিটার রেলপথ এই ধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাটির উপরে পাতা রেললাইন একেবারে নীচ থেকেই ক্ষয়ে গিয়েছে। মূলত ইঁদুরের গর্তের কারণেই এই বিপত্তি। প্রবল বৃষ্টিতে জল ঢুকে সেই অংশ রীতিমতো বসে গিয়েছে। স্টোনডাস্ট ফেলে সেই জমি মেরামত করা হয়েছে। তারপর জেনারেটর ভ্যান চালিয়ে ট্রায়াল দেওয়ার সময়ে আবার ধসে যায় লাইন। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বেসমেন্ট, অর্থাৎ জমির ভিত মজবুত করা অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছেন রেলের আধিকারিকরা। সেই সূত্রে ক্রেন এনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের রেললাইন তুলে জমি মেরামত শুরু হয়েছে। একটি মাত্র লাইন দিয়ে আপ ও ডাউন—দু’দিকের ট্রেন চলাচল করায় অসম্ভব লেট চলছে গাড়ি।

    তবে দুর্যোগ জারি থাকায় যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে ও মেরামতির কাজ দ্রুত শেষ করতে একাধিক ট্রেন বাতিল করতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ। বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে  পরিবহণ দপ্তর শুক্রবার কলকাতা-শিলিগুড়ি রুটে বাড়তি ২৩টি সরকারি বাস চালিয়েছে। শিলিগুড়ি-কলকাতার মধ্যে চলেছে একডজন বাস। এদিন রাত পর্যন্ত ধর্মতলা বাস ডিপো থেকে যাত্রী তুলে একাধিক সরকারি বাস উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠকও করেছেন। আটকে থাকা যাত্রীদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। ট্রেনের যাত্রীদের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে খাবার-জল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এদিন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘ভূমি ধসের উপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভাঙন রোধে কোনো আগাম পদক্ষেপ করা যায় কি না, খতিয়ে দেখা হবে। বাসের ভাড়াও যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য আমিও রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে কথা বলছি। তিনি নিজে পুরোটা খতিয়ে দেখছেন।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)