• বয়সের গরমিল, ক্রিকেটারদের শাস্তি নিয়ে দু’রকম নীতি সিএবি’র
    বর্তমান | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বয়স ভাঁড়ানো নিয়ে উত্তাল সিএবি। বাংলার লেগস্পিনার রোহিত যাদবকে এই অপরাধে দু’বছরের জন্য নির্বাসিত করেছে বিসিসিআই। অথচ, সপ্তাহখানেক আগেই অস্ট্রেলিয়ায় বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজের জন্য ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ঘোষিত হয়েছিল তাঁর নাম। উত্তপ্রেদেশে জন্মানো রোহিত অবশ্য এরই মধ্যে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কায় শেষ টেস্ট জেতানোর নেপথ্যে ৬ উইকেট নিয়ে বড়ো অবদানও রাখেন। জানা গিয়েছে, শ্রীলঙ্কায় কাগজপত্রের স্ক্রুটিনির সময়ই বয়স ভাঁড়ানোর বিষয়টি ফাঁস হয়। তিনটি বার্থ সার্টিফিকেট রয়েছে রোহিতের। একটিতে জন্ম ২০০৭ সালে। বাকি দু’টিতে যথাক্রমে ২০০৯ ও ২০১০ সালে। আধার কার্ডের তথ্যেও রয়েছে অসঙ্গতি। দু’বছরের জন্য সাসপেন্ড হওয়ার আগেই রোহিতকে বাংলার জুনিয়র দলের বাইরে রেখেছিল সিএবি। কিন্তু তারপরও প্রশ্ন থামছে না। একা রোহিতই নয়, ময়দানের ক্রিকেটে যে বয়স ভাঁড়ানোর ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠছে!

    সঠিক কাগজপত্রের অভাব ও বয়স সংক্রান্ত কারচুপির কারণে সিএবি ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ মরশুম থেকে মোট ৬২জন ক্রিকেটারের নিবন্ধনকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত রোহিতও। সিএবি’র রেকর্ডে তাঁর গরমিল ৪৫ মাসের! এরমধ্যে আছেন ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী পেসার রবি কুমার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনটি ম্যাচ ও লিস্ট এ ক্রিকেটে দুটো ম্যাচ খেলা বাঁ-হাতি স্পিন অলরাউন্ডার বিশাল ভাট্টিও রয়েছেন তালিকায়।
    বয়স ভাঁড়ানো নিয়ে সমস্যা অন্য বয়স-ভিত্তিক দলেও রয়েছে। তারমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে কারচুপি কয়েক বছরেরও বেশি। জানা গিয়েছে, বয়স ভাঁড়ানোতে মোট অভিযুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চারশো। কিন্তু মাত্র ৬২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বাকিদের কোন যুক্তিতে ছেড়ে দেওয়া হল? সামনে সিএবি নির্বাচন। ভোটের কথা মাথায় রেখেই কি কড়া পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ বঙ্গীয় ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা? সিএবি’র সচিব বাবলু কোলে বললেন, ‘প্রায় চার হাজার ক্রিকেটারের মধ্যে থেকে ঝাড়াই-বাছাইয়ের কাজ চলেছে। যে ক্রিকেটাররা অনূর্ধ্ব পর্যায়ে খেলেছে, তাদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত আগে হয়েছে। তবে কাউকেই ছাড়া হবে না। বাকিদেরও শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে। সেক্ষেত্রে কে কতটা খেলেছে, কোন পর্যায়ে খেলেছে, সেই সব মাথায় রেখেছি আমরা। ট্রান্সফারের সময় খুঁটিয়ে সব পরীক্ষা করা হচ্ছে। যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ আর না হয়।’

    অভিশান্ত বক্সী নামে এমন ক্রিকেটারের সন্ধানও পাওয়া গিয়েছে, যিনি আগের দু’বছর স্থানীয় ক্রিকেটার হিসাবে খেলেছেন দ্বিতীয় ডিভিশনের সাবার্বান ক্লাবের হয়ে। গতবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় এবার সাবার্নান খেলবে প্রথম ডিভিশনে। আর এবার অভিশান্ত হয়ে গিয়েছেন ভিনরাজ্যের। আসলে দ্বিতীয় ডিভিশনে ভিনরাজ্যের ক্রিকেটার খেলানোর নিয়ম নেই। তাই অভিশান্ত হয়ে গিয়েছিলেন স্থানীয়! অবশ্যই প্রভাবশালী কর্তার সৌজন্যে। কিন্তু যে কর্তারা বঙ্গ ক্রিকেটের এমন সর্বনাশ করছেন, তাঁদের শাস্তিই বা হচ্ছে না কেন?
  • Link to this news (বর্তমান)